আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড মহারণ ঘিরে নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

স্পোর্টস ডেস্ক

আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড মহারণ ঘিরে নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে শুধু মাঠেই নয়, গ্যালারিতেও উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। সে কারণেই কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আটলান্টা পুলিশ।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ম্যাচটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলকে ঘিরে দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ এখনও তীব্র। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্যালারিতে উসকানিমূলক স্লোগান বা উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৭৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার আটলান্টা স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের পুরোপুরি আলাদা করে বসানো সম্ভব নয়। ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া টিকিটধারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকলেও, সাধারণ কোটায় টিকিট কাটা দর্শকদের ক্ষেত্রে দুই দলের সমর্থক একই অংশে বসতে পারবেন। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর থাকবে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ মোটের ওপর ইতিবাচক ছিল। তবে গত শনিবার মায়ামিতে চারজনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে একজন বৈধ টিকিট ছাড়া স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশিং ইউনিট এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড উভয় দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সমর্থকের কারণে গ্যালারিতে সমর্থকদের উপস্থিতি প্রায় সমান হতে পারে। বিশেষ করে ফ্লোরিডায় বসবাসরত বহু আর্জেন্টাইন সমর্থক এই ম্যাচ দেখতে আটলান্টায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য থেকে আসা দর্শক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে থাকা ইংলিশ সমর্থকদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে গান গাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের কিছু সমর্থকের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ভিডিওও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি ফিফা।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যাশা, অতীতের তিক্ত ইতিহাস কিংবা মাঠের বাইরের উত্তেজনা নয়, বিশ্বকাপের এই মহারণ শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় হবে শুধুই ফুটবলের জন্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...