বিপিএলের ২০২৬ সালের আসরের শিরোপা জিতেছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফাইনালের মঞ্চে দাপুটে খেলা উপহার দিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আগে ব্যাট করে রাজশাহী করেছিল ৪ উইকেটে ১৭৪। চট্টগ্রাম তাড়া করতে নেমে অলআউট ১১১ রানে। ৬৩ রানের জয়ে দ্বাদশ বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন লিগের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৭৪ রানে থামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ইনিংস। তখনই মনে হয়েছিল এই লক্ষ্য তাড়া করতে বেশ বেগ পেতে হবে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। হয়েছেও তাই, এই লক্ষ্য আর তাড়া করতে পারেনি দলটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানে থেমেছে তাদের ইনিংস। বন্দরনগরীর দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ওপেনার নাঈম শেখ। ১০ বলে ৯ রান করেন তিনি। তার ওই বিদায়ের পর হাল ধরতে পারেনি আর কেউ। ওপেনার মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। এটাই চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে আসিফ আলীর ব্যাটে। হাসান নাওয়াজ ও জাহিদুজ্জামান সাগর করেন ১১ রান করে। তাতে কোনমতে ১০০ রানের কোটা পার করে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর হয়ে বল হাতে দারুণ ছিলেন লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। মাত্র ৩ ওভারে ৯ রান খরচায় তার শিকার ছিল ৪ উইকেট। এছাড়া স্পিনার হাসান মুরাদ ১৫ রানে নেন তিন উইকেট। মূলত তাদের দুজনের বোলিং তোপে নিজেদের রান বাড়াতে ব্যর্থ চট্টগ্রাম। তাতে ৬৩ রানে হেরে হাতছাড়া করল শিরোপা।
এর আগে, তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ঠিক ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। ৬২ বলের ইনিংসে ৬ চারের সঙ্গে মারেন ৭টি ছক্কা। বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি।
রাজশাহীর হয়ে এছাড়া আর কেউই তেমন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৩০ রান করতে ৩০ বল খেলেন সাহিবজাদা ফারহান ও কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৪ রান।
চট্টগ্রামের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম। এর মধ্যে ইনিংসের শেষ বলে নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট নিয়ে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েন শরিফুল।
এবারের বিপিএলে ১২ ম্যাচে শরিফুলের শিকার ২৬ উইকেট। সেরা বোলিং ৯ রানে ৫ উইকেট। গত বিপিএলে সমান ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। পরের আসরেই সেই রেকর্ড নতুন করে লিখলেন শরিফুল ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (তানজিদ ১০০, ফারহান ৩০, উইলিয়ামসন ২৪; মুকিদুল ২/২০, শরীফুল ২/৩৩)।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭.৫ ওভারে ১১১ (মির্জা ৩৯, আসিফ ২১, নেওয়াজ ১১; বিনুরা ৪/৯, মুরাদ ৩/১৫, নিশাম ২/২৪)।
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানে জয়ী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

