আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নতুন সিরিজে দুদলের একই লক্ষ্য

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

নতুন সিরিজে দুদলের একই লক্ষ্য

চট্টগ্রামের সাগরিকায় মাঠে এসেই উইকেট দেখতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন সামি ও অধিনায়ক শাই হোপ। তাদের সঙ্গে ছিলেন কিউরেটর টনি হেমিং। লম্বা সময় আলোচনা চলল এই ত্রয়ীর। মিরপুরের মতো যেন উইকেট নিয়ে ধাঁধায় না পড়তে হয়, সে কারণেই হয়তো এমন আলোচনা সভা তাদের মধ্যে। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টও অনুশীলন শুরুর আগে লম্বা সময় কিউরেটর টনি হেমিং ও জাহিদ রেজা বাবুর সঙ্গে লম্বা আলোচনা করেছে। দুই দলের এমন বাড়তি আগ্রহে প্রশ্ন জাগে কেমন হবে উইকেট? চট্টগ্রামের উইকেটের সুনাম স্পোর্টিং বলে। সে কারণেই বোধহয় সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবিয়ান কাপ্তান শাই হোপ বলে ওঠেন নতুন উইকেট! সেই চিন্তা মাথায় নিয়ে আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ঢাকায় কালো উইকেট রহস্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল পুরো স্পিন ট্র্যাক। ওয়ানডে সিরিজে ধাঁধা থাকায় চট্টগ্রামে তেমন ঝুঁকি নিতে নারাজ উইন্ডিজ। স্কোয়াডে বাড়তি স্পিনার যোগ করেছে তারা। সেই কাজের পরও সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শাই হোপের আশা নতুন ধাঁচের উইকেটে পাবেন টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন সিরিজ, নতুন উইকেট এবং একই লক্ষ্য।’ নতুন সিরিজ চিন্তায় রেখে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাসও অবশ্য একই ধরনের কথাই বলেছেন। তার কথায়, ‘যেহেতু ফরম্যাট ডিফারেন্ট হয়ে গেছে, আমাদের টার্গেট থাকবে এই সিরিজটা এবং সম্পূর্ণ এই সিরিজ নিয়ে আমরা ফোকাস করছি।’

বিজ্ঞাপন

সিরিজ নিয়ে দুই অধিনায়কের লক্ষ্য একই হলেও তাদের উত্তর দিতে হয় উইকেট নিয়েও। স্বাগতিক অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘আমরা সবাই জানি চট্টগ্রামে একটু ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট, এটা নরমাল। আশা করছি এবারো ভালো উইকেট হবে।’ উইকেট যখন ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি তখন লিটনের মতে, ‘যারা ভালো ক্রিকেটটা খেলবে, তারই সাকসেস রেট বেশি থাকবে।’ অন্যদিকে শাই হোপের ভাষ্য ছিল, ‘যতবারই চট্টগ্রামে এসেছি, প্রত্যেকবারই ভালো উইকেট পেয়েছে। ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। পিচ দেখে মনে হয়েছে, এটা দারুণ হবে।’

উইকেট আর সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে যতই আলোচনা হোকÑএই সিরিজের আগে দুই দলের অবস্থান দুই মেরুতে। সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেপালের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের মতো প্রায় একই ধাঁচের উইকেট শারজায় হলেও, সেখানে সিরিজ হেরেছে তারা। অন্যদিকে আবুধাবিতে আফগানিস্তানকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারানোর সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। এমন সাম্প্রতিক অতীতের মধ্যে পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুদলের ১৮ দেখায় বাংলাদেশের ৮ জয়ের বিপরীতে সফরকারীদের জয় ৯ ম্যাচে। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত।

উইকেট আর কন্ডিশন বিবেচনায় দুদল কেমন একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে সেটাও অবশ্য বড় প্রশ্ন। দুপুরে চট্টগ্রামে থাকা তপ্ত গরমের প্রভাব বেশ ভালোই থাকে সন্ধ্যা ৬টায়। এমনকি গরমের সেই প্রভাব কমতে কমতে শেষ হয়ে যাবে ম্যাচের প্রথম ইনিংস। ফলে একাদশ কেমন হবে সেটা অনেকটাই কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করছে। আবহাওয়া খানিকটা গরম থাকায় এবং রাতে শিশির পড়ায় দুদলই চাইবে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামতে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে টস, শিশির আর গরম কেমন প্রভাব রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন