দিনের শুরুতে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটারের রান ছিল এমন; নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত ১৩৬ ও মুশফিকুর রহিম নটআউট ১০৫। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৯২।
দিনের শেষে বাংলাদেশের দুই ব্যাটারের স্কোরে দারুণ মিল। দুজনেই অপরাজিত শূন্য, হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা; দলের ১০ ও ১১ নম্বর ব্যাটার এ দুজন। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৯ উইকেটে ৪৮৪ রান।
আগের দিনের রান, উইকেট এবং ওভারের হিসাবের বিয়োগফল জানাচ্ছে দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের পুঁজিতে জমা হয়েছে আরো ১৯২ রান। মাঝে খেলেছে ৬১ ওভার। আর ক্ষতি হয়েছে ৬ উইকেট। গল টেস্টের এই সমীকরণ জানাচ্ছে, প্রথম দিনে ছিল শুধুমাত্র বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপট। দ্বিতীয় দিন লড়াইয়ে ফিরেছে শ্রীলঙ্কার বোলাররাও। সহজ ও ধীরগতির ব্যাটিং উইকেটে টানা দুদিন ব্যাট করার পরও বাংলাদেশের স্কোর যে ৫০০ ছাড়াতে পারেনি, সেজন্য শ্রীলঙ্কার বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হচ্ছে। আর দিনের শেষভাগে বৃষ্টিও বাংলাদেশের সঙ্গে শত্রুতা দেখাল! বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা কোনো খেলাই হলো না।
সকালের সেশনে নাজমুল হোসেন শান্তকে হারানোর দুঃখ ভুলিয়ে দেয় মুশফিকের সঙ্গে লিটন দাসের ব্যাটিং জুটি। পঞ্চম উইকেট জুটিতে এ দুজনে মিলে ১৪৯ রান যোগ করেন। টেস্টে ফর্মে ফিরে আসার জন্য লিটন দাসের জন্য গল টেস্টের উইকেট ছিল আদর্শ ক্ষেত্র। চমৎকার কায়দায় সে সুযোগটা কাজে লাগান লিটন। পেছনের ১১ টেস্ট ইনিংসে এই প্রথম বলার মতো কোনো রান পেলেন তিনি। যেভাবে খেলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকের দেখানো সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছেন লিটন। বেশ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ৬৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পুরো করেন এই ডানহাতি।
সকালে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং বিকালে মুশফিকুর রহিম দুজনেই গলেতে ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ হারান। শান্ত সকালের সেশনে আশিতা ফার্নান্দোর বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দেন। সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দক্ষতার সঙ্গে ক্যাচ নিয়ে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউস তার বিদায়ী টেস্টকে ফিল্ডিংয়ে রাঙিয়ে রাখলেন। ২৭৯ বলে ১৪৮ রানে শেষ হয় শান্তর ইনিংস।
লিটন দাস ও মুশফিক রহিমের ব্যাটিংয়ে আরেক দফা বেচারা দেখাল শ্রীলঙ্কান বোলিংকে। লিটন ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালালেন। অন্য প্রান্তে মুশফিকের ব্যাট আরো যেন পারফেকশনের দ্যুতি ছড়ায়। ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো ইনিংসে ১৫০ বা তার চেয়ে বেশি রানের মাইলফলক পার করেন তিনি। মনে হচ্ছিল এই মাঠে ২০১৩ সালে করা নিজের ডাবল সেঞ্চুরির কৃতিত্বকে আরেকবার ছুঁতে চলেছেন তিনি। দ্বিতীয় দিন তার ব্যাটিংয়ে একটু অতিসাবধানী ভঙ্গিও দেখা গেল। দিনভর ১৬৪ বল খেলে আগের দিনে নিজের সঞ্চয়ের সঙ্গে আর মাত্র ৫৮ রান যোগ করেন মুশফিক। ৩৫০ বল খেলে ১৬৩ রান করে আশিতা ফার্নান্দোর যে বলে এলবিডব্লিউ হলেন, তাতে আম্পায়ার কলের মোজেজাই যে বেশি ছিল! অবশ্য এই আম্পায়ার্স কলের কল্যাণেই এর আগে একবার আউট হওয়া থেকে রক্ষাও পান মুশফিক। শেষে অমন এক আম্পায়ার্স কলেই ফিরেও গেলেন। হিসাব বরাবর!
মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি মিসের পথে হেঁটে লিটনও তার সেঞ্চুরি হাতছাড়া করে ফিরলেন। নিশ্চিত এই সেঞ্চুরি মিসে লিটনের দুঃখের নাম ‘রিভার্স সুইপ’! আর বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে পাঁচশ’র নিচে রাখতে পারার পুরো কৃতিত্ব পাচ্ছে শ্রীলঙ্কার গোছালো বোলিং!
সংক্ষিপ্ত স্কোর : (দ্বিতীয় দিন শেষে, বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ৪৮৪/৯ (১৫১ ওভার, সাদমান ১৪, এনামুল ০, মুমিনুল ২৯, নাজমুল ১৪৮, মুশফিক ১৬৩, লিটন ৯০, জাকের ৮, নাইম ১১, তাইজুল ৬, হাসান মাহমুদ ০*, নাহিদ রানা ০*, অতিরিক্ত ১৫, ফার্নান্দো ৩/৮০, মিলান রত্নানায়েকে ৩/৩৮, থারিন্দু রত্নানায়েকে ৩/১৯৬)।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

