আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

একদিনের ক্রিকেটে দুর্দিনে বাংলাদেশ

এম. এম. কায়সার

একদিনের ক্রিকেটে দুর্দিনে বাংলাদেশ
তানজিদের এই আউট যেন ওয়ানডে দলের প্রতিচ্ছবি। ছবি: এএফপি

ওয়ানডে ক্রিকেট- এই ফরম্যাটের প্রসঙ্গ উঠলেই বাংলাদেশ একটা শব্দে আত্মতুষ্টি খুঁজত- কমফোর্ট জোন!

টেস্ট ক্রিকেটে এখনো শিক্ষণীয় পর্যায়ে। টি-টোয়েন্টির ব্র্যান্ডের সঙ্গে এখনো সঠিক কায়দায় পরিচিত হয়ে ওঠেনি। কেবল ওয়ানডে ক্রিকেটেই বাংলাদেশের যা কিছু সাফল্য খুঁজে পাওয়া যেত। তিন ফরম্যাটের মধ্যে একদিনের ম্যাচেই বাংলাদেশের সাফল্যের হার যা একটু বেশি। বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো সামান্য কিছু ক্রিকেটও বাংলাদেশ খেলেছে এই ফরম্যাটে। খুব গর্ব করে বলতে পারত- ‘একদিনের ক্রিকেটে নিজেদের দিনে আমরা বিশ্বের যে কোনো দলকে হারাতে পারি।’

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এখন পরিসংখ্যান জানাচ্ছে একসময়ের সাফল্যময় একদিনের ক্রিকেটেই সবচেয়ে বড় দুর্দিন যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। একবছরেরও বেশি সময় হয়ে গেল কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। গত বছরের ১৩ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৪টি ওয়ানডে ম্যাচে জিতেছে মাত্র ৪টি। হেরেছে বাকি ১০ ম্যাচে। এই ১০ ম্যাচে হারের ব্যবধানগুলো এমন যে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা লড়াইয়ের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই। এই তালিকায় আফগানিস্তানের কাছেও বাংলাদেশ ৯২ রানে ম্যাচ হারের দুরবস্থায় পড়েছিল। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার কাছে নিজেদের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ হেরেছে ৯৯ রানে।

একসময়ের ওয়ানডে ক্রিকেটের ‘ওয়ান্ডার’ হয়ে ওঠা বাংলাদেশ এখন যেন পুরোপুরি ‘সারেন্ডার’ করা দল!

সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে ফলাফল শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং দলের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতাও প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা বারবার দলকে ডোবাচ্ছে। অভিজ্ঞতা ও স্থিতির অভাব, একাধিক ব্যাটারের ফর্মহীনতা, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ইনিংস সাজাতে না পারার ব্যর্থতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতা, আনাড়িপনা ব্যাটিংই এই ব্যর্থতার মূল কারণ।

মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের শূন্যতা পুরো দলের ব্যাটিংকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। নতুনদের দিয়ে সেই জায়গা পূরণ করাতে গিয়েই বারবার ভেঙে পড়ছে ইনিংস। পাঁচ রান যোগ করে হারাচ্ছে বাংলাদেশ সাত উইকেট-এমন দুঃসময়ও দেখতে হচ্ছে! ব্যাটিংই যাদের মূল কাজ, সেই তারা কেউ ধারাবাহিকভাবে রানে নেই। ঠেলেঠুলে একজন হয়তো হাফসেঞ্চুরি করছেন, কিন্তু এতো ছোট অবদানে দলের বড় সমস্যা কাটছে না। ব্যাটাররা ‘ফিনিশার’ হওয়ার আগে নিজেই ফিনিশ হয়ে যাচ্ছেন! একটু চাপ বাড়ালেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ভেঙে চুরমার- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা এখন ওপেন সিক্রেট।

ওয়ানডেতে নতুন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে কঠিন দায়িত্ব। নেতৃত্বের শুরুটা তার মোটেও স্বস্তির কিছু হলো না। অধিনায়ক হিসেবে তাকে আরো দৃঢ় মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আর সবকিছুর আগে একাদশে ব্যাটে-বলে তাকে পারফরম্যান্স করতে হবে।

দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা যেমন বড় সমস্যা, তেমনি নেতৃত্ব ও কোচিংয়ের মধ্যেও চাই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। পুরো বাংলাদেশ দল ও ম্যানেজমেন্ট এখন খারাপ ছাত্র এবং খারাপ শিক্ষকের দলে পরিণত হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঠাট্টা-মশকরার পাত্র হয়ে গেছে। প্রতিটি সিরিজ শেষে মাঠের কোণে অসহায় চোখে তাকিয়ে দেখছে প্রতিপক্ষের বিজয় উল্লাস। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের গায়ে এখন সর্বস্ব হারানো দলের ট্যাগ।

কমফোর্টের ফরম্যাট এখন পুরোদস্তুর ডিস-কমফোর্ট!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন