নাগোয়ায় বৃষ্টিতে আটকে ক্রিকেট আনন্দ!

নাগোয়ায় বৃষ্টিতে আটকে ক্রিকেট আনন্দ!

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের পিছু নিয়েছে বৃষ্টি। ক্রিকেট দল জাপানে এসে পৌঁছানোর পর থেকে এখনো বৃষ্টিহীন কোনোদিন দেখেনি। কাল দলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছিল। মাঠে যাওয়ার সময় বৃষ্টির আভাস ছিল। সেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই ক্রিকেট দল খারোগি অ্যাথলেটিক পার্কের ক্রিকেট মাঠে পৌঁছে নেটে খানিকক্ষণ অনুশীলন করল। তবে পুরো মাত্রার অনুশীলন যাকে বলে, সেটা আর করা হলো না বৃষ্টি-বাধায়। ভারতীয় ক্রিকেট দলও এ সময় মাঠের আরেক প্রান্তে অনুশীলনে ব্যস্ত ছিল। পাশাপাশি দুটি নেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করে বাংলাদেশ ও ভারতীয় দল। যেভাবে এই গেমসের সূচি, তাতে ফাইনালের আগে এ দুদলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। ভারত আজ গেমসে তাদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে।

অনুশীলনে বৃষ্টি বাধা হবেÑএটা জেনেই দুপুরে হোটেল থেকে মাঠে রওনা হয় বাংলাদেশ দল। অনুশীলনে দলের সবাই ছিলেন না। বেশিরভাগ সময় মাঠের অস্থায়ী টেন্টে ক্রিকেটারদের সময় কাটাতে হয়।

বিজ্ঞাপন

গেমস কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের একটি দল ঠিকই বৃষ্টিতে ভিজে ক্রিকেটারদের অনুশীলন কাভার করতে আসেন। কাল ২৯ সেপ্টেম্বর গেমসে বাংলাদেশ দলের প্রথম প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ওই ম্যাচ জিতলে সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। সেমিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপাল।

তবে গেমসে এখন কে কার প্রতিপক্ষ, সে হিসাবের চেয়ে বৃষ্টিতে খেলা হবে কি নাÑসেই আশা-আশঙ্কায় দিন পার করছে দলগুলো। খারোগি অ্যাথলেটিক পার্কের ড্রেনেজ সিস্টেমের যে হাল, তাতে সামান্য বৃষ্টিতেই এখানকার ম্যাচ কেঁচে যেতে পারে। আর আইচি-নাগোয়ায় শনি ও রোববার টানা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি যে খুব জোরে হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। তবে দিনভরই হচ্ছে গুঁড়ি গুঁড়ি। ছাতা এবং তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ক্রিকেটাররা অনুশীলন মাঠ থেকে হোটেলে ফেরার বাস ধরলেন।

আজ দ্বিতীয় দিনের অনুশীলনেও বৃষ্টির চিন্তাই মাথায় থাকছে!

আইচি-নাগোয়ায় বৃষ্টি এবং খেলা মাঠে গড়াবে কি নাÑসে শঙ্কা প্রসঙ্গে দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বললেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করে এসেছি। আমাদের ভাবনায় ছিল হয়তো এমনই হবে। অন্য দলগুলোর যে অবস্থা, আমাদেরও একই অবস্থা। আমরা এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই। শনিবার বিশ্রাম ছিল, যেহেতু আমরা ভ্রমণ করে এসেছি। এখানে যে খুব বেশি সুবিধা পাব না, সেটা আমরা জানি; সে কারণে আমরা অমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি।’

পুরোদস্তুর অনুশীলন হয়নি। কিন্তু এর ফাঁকেই মাঠের উইকেট পরিদর্শনের কাজটি সেরে ফেলেন সালাউদ্দিনÑ‘উইকেট দেখে ওভার অল ভালো মনে হয়েছে। যেহেতু একই মাঠে বারবার খেলা হচ্ছে, তাই উইকেট একটু স্লো হতেই পারে। উইকেট একটু বিশ্রাম পেলে ভালো হতো। তার ওপর বারবার বৃষ্টি হচ্ছে, সূর্যের আলোও তেমন পাচ্ছে না। এখানে বল ব্যাটে একটু দেরিতে আসবে বলে ধারণা করছি।’

দলের মানসিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে কোচ জানালেন, ‘সবাই ভালো অবস্থায় আছে। প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। প্রথম খেলাটি (মালয়েশিয়ার বিপক্ষে) হলে আমরা খুশি হব। প্রথম ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ৫-৭ দিন পর হঠাৎ করে ম্যাচ খেলাটা অনেক কঠিন ব্যাপার। আগে-পরের কোনো বিষয় নিয়ে না ভেবে আমাদের প্রথম ম্যাচটি নিয়ে ভাবা উচিত।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়া তেমন শক্তিশালী নয়। তবে মাঠে নামার আগে অমন সহজ কিছু চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। এমন মাঠে, ছোট ফরমেটের ক্রিকেটে যে কোনো দল যে কাউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। দল এ বিষয়ে সতর্ক। কোচের কথায়ও তা-ই ফুটে উঠলÑ‘আমি নিজে মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন কোচিংয়ের কাজ করেছি। তাই দেশটি সম্পর্কে ভালো জানা আছে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে আপসেট হতে পারে। কারণ, একই উইকেটে বারবার খেলা হয়। এখানে টস অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে নামার আগেই জিতে গেছি ভেবে ফেলা উচিত নয়। মাঠে খেলেই আমাদের জিততে হবে। সেভাবেই আমাদের মানসিক প্রস্তুতিটা নেওয়া উচিত। আমরা ওভাবেই নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক করেছি। ম্যাচ খেললেই বোঝা যাবে কী অবস্থা। কোনো প্রতিপক্ষকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। আমরা কোয়ার্টার ফাইনালটি খেলব; এটিও চাপের ম্যাচ। কারণ, এটিও নকআউট ম্যাচ। নকআউটে সব সময় চাপ থাকবে। এ মুহূর্তে ওই খেলাটি নিয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত। সেমিফাইনালে কার সঙ্গে খেলা পড়বে, সেটা পরের ব্যাপার। ওটা নিয়ে পরে দেখা যাবে।’

এশিয়ান গেমসের গুরুত্ব প্রসঙ্গে কোচ জানালেন, অবশ্যই এ গেমসে আমাদের দিকে পুরো দেশ তাকিয়ে আছে। আমরা যখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলি, তখন সেখানে শুধু খেলোয়াড়রা সেটা নিয়ে ফোকাসে থাকে। কিন্তু এখানে পুরো দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দলও সেটা জানে। তাই তারা সবাই পারফর্ম করার জন্য মুখিয়ে আছে।’

হেড কোচ ফিল সিমন্স এ গেমসে দলের সঙ্গে নেই। ছুটিতে আছেন। দলের সঙ্গে কোচ হয়ে গেমসে এসেছেন সালাউদ্দিন। এ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন সালাউদ্দিন লম্বা সময় ধরে। কোচ হিসেবে এই বাংলাদেশ দলের শক্তির দিক কোনটি, সে প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন সুনির্দিষ্ট কোনো বিভাগ বা কারো নাম না বলে সামগ্রিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রক মানলেন। জানালেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ দলটি একসঙ্গে খেলে এসেছে। তারা জানে কোন মুহূর্তে কী করতে হবে। আমি যখন আমার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন থাকব, তখন কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে। এ দলের ক্রিকেটাররা জানে ম্যাচে মাঠে তাদের রোলটি কী? এমন অবস্থায় আমার জন্য পরিকল্পনা করাটা সহজ হয়।’

এখন বৃষ্টিতে খেলার অনুমতি দিলেই হয়!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন