ব্যাটারি রিকশার পেটে ২০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ

ব্যাটারি রিকশার পেটে ২০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ
আমার দেশ গ্রাফিক্স

বিদ্যুতের জন্য সারা দেশে যখন হাহাকার চলছে, তখনো প্রতিদিন ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশা। পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ‘বাংলার টেসলা’ নাম দেওয়া এসব ইজিবাইকের পেছনে বিদ্যুতের বার্ষিক খরচ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা। দিন যত যাচ্ছে, ততই বেড়ে চলেছে এই ব্যয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ করায় এই খাতে বছরে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার দাবি তোলা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।

বিজ্ঞাপন

যদিও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর ব্যাটারিচালিত রিকশা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তালিকাভুক্তির শর্ত হিসেবে তাদের কেবল সৌরবিদ্যুৎ থেকে চার্জ নিতে হবে। এ নির্দেশনা না মানলে জরিমানা করা হবে।

দেশের পরিবহন খাতে এই বাহনের প্রয়োজনীয়তা ও অবদান এখন আর পুরোপুরি উপেক্ষার নয়। কিন্তু শৃঙ্খলা, নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং দেদার রাস্তায় নামা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীসহ অনেক শহরে ট্রাফিক-ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, এসব রিকশায় সাধারণত ১২ ভোল্টের চার-পাঁচটি ব্যাটারি রয়েছে। দেশে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ। একেকটি ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতি ঘণ্টায় ৯০০-১১০০ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। দিনে গড়ে আট ঘণ্টা চার্জে রাখলে একেকটি রিকশায় বিদ্যুৎ খরচ হয় ৮-৯ ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা)। ফলে কেবল রিকশার ব্যাটারি চার্জের পেছনেই প্রতিদিন চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডের ৮০০-৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোই গ্রাস করছে বছরে প্রায় ৩ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা দেশের মোট উৎপাদনের অন্তত ৫ শতাংশ।

অবাক করা তথ্য হলো, এসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জের জন্য খোদ মন্ত্রণালয় থেকেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশনের। এর মধ্যে ডিপিডিসির অধীনেই রয়েছে ২ হাজার ২০১টি বৈধ চার্জিং স্টেশন। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, এসব স্টেশনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে গড়ে ২৬ দশমিক ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যদিও মন্ত্রণালয়ের এসব বৈধ চার্জিং স্টেশনে গ্রাহকদের আগ্রহ খুবই কম। বৈধ চার্জিং স্টেশনের চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে অবৈধ চার্জিং স্টেশন। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি লাইন নিয়ে চলছে অনেক চার্জিং পয়েন্ট। এসব অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই এগোচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। চাহিদা ১৮-১৯ হাজার মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপন্ন হচ্ছে ১৩-১৫ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে এ সংকট প্রকট হয়ে দেখা দেয়। ফলে লোডশেডিং করতে হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট। লোডশেডিংয়ের চাপ এতদিন প্রায় পুরোটাই সইতে হয়েছে গ্রামের মানুষদের। ক্ষেত্রবিশেষে ৭-১২ ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে তাদের। গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী ঢাকায়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে। ঢাকায় বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

৪৮ হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যানুযায়ী, কেবল রাজধানী ঢাকায় রয়েছে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ। এর মধ্যে ওয়ারী ডিভিশনে রয়েছে ৩৫১৬টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। গুলশান ডিভিশনে আছে ২৬৪৩ চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ। মিরপুর ডিভিশনে আছে ৩৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ। এক হাজার ৩০৫টি চার্জিং পয়েন্ট ও ৭২টি গ্যারেজ রয়েছে উত্তরা ডিভিশনে। মতিঝিল ডিভিশনে রয়েছে ১৩৯০টি চার্জিং পয়েন্ট ও ৬০টি গ্যারেজ। এসব গ্যারেজের প্রতিটিতে দিনে ৮০-১৫০টি রিকশা রাখা হয়। আর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজেই রয়েছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সুবিধা।

জ্বালানিমন্ত্রীর ক্ষোভ

এদিকে অবৈধ অটোরিকশার কারণে দেশে বিদ্যুতের সংকট দেখা দিয়েছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ অটোরিকশার কারণে এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহদিা তৈরি হয়ছে, যা আগে ছিল না। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সংশ্লিষ্টরা উল্টো হামলা চালাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জের কারণে মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ অটোরিকশা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এগুলো প্রতিরোধে চেষ্টা করছে।

সিপিডির গবেষণা

বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশার ভয়াহতা তুলে ধরে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমাদের কষ্টার্জিত বিদ্যুতের অন্তত পাঁচ শতাংশ খেয়ে ফেলছে অবৈধ অটোরিকশা। লাইসেন্সবিহীন এসব রিকশার কারণে শহরে ভিড় বাড়ছে, হতাহত বাড়ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সংস্থাটির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট খালিদ মাহমুদ বলেন, সড়কে মৃত্যুর ২১ দশমিক ০১ শতাংশই অটোরিকশার কারণে। এই রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে দেশের মোট বিদ্যুতের পাঁচ শতাংশ প্রতিদিন ব্যবহার হচ্ছে, যা প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। চার্জিং স্টেশন আছে ৩৩০০। এসব রিকশায় ব্যবহৃত ব্যাটারির ২০ শতাংশ কোনোরকম রিসাইক্লিং করা হয়। বাকিটা পরিবেশে মিশে ক্ষতি করছে।

বিসিআই সভাপতির ক্ষোভ

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্রমাগত সংখ্যা বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) আমার দেশকে বলেন, সরকার বৈধ শিল্পগুলোকে চাহিদানুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, অথচ অবৈধ অটোরিকশার পেছনে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উচিৎ বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অটোরিকশাগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসা।

অটোরিকশা শ্রমিকদের তিন দফা

নীতিমালা করা হলে দেশে অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাবে এবং সরকার যথাযথ হারে রাজস্ব পাবে দাবি করে অটোরিকশা শ্রমিক নেতা খালেকুজ্জামান রিপন বলেন, ২০১২-১৩ সালে এই রিকশা প্রথম চলা শুরু হয়। তখন আমাদের দাবি ছিল তিনটি। এগুলো হলো সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন; এই রিকশার জন্য রাস্তার পাশে পৃথক সার্ভিস রোড এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

২০১৭ সালে সরকার নীতিমালা করার উদ্যোগ নেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ইলেক্ট্রিক যানবাহনের জন্য নীতিমালা তৈরিও হয়। কিন্তু ওই নীতিমালায় অটোরিকশাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমতাবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

সাইফুল হকের ক্ষোভ

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে দায়ী করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। গত রোববার বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতি আয়োজিত রিকশা শ্রমিকদের সমাবেশে তিনি বলেন, অবিশ্বাস্যভাবে চলমান বিদ্যুৎ সংকট বৃদ্ধির দায়ও চাপানো হচ্ছে রিকশা শ্রমিকদের ওপর। অনতিবিলম্বে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নির্বিচারে ডাম্পিং এবং তাদের ওপর বেশুমার চাঁদাবাজির সন্ত্রাস বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আটক করা সব রিকশা ছেড়ে দিতে হবে। রিকশা চালকদের থেকে বেশুমার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে রিকশা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তার মতে, সংকট মোকাবিলায় আগে সরকার এবং উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির দাবি

অবৈধ অটোরিকশা বন্ধে অতীতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল মোজাম্মেল হক চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, সেসব কর্মসূচি আলোর মুখ দেখেনি। অটোরিকশাগুলো বিদ্যুৎ চুরির প্রকাশ্য শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা বরাবরই সরকারকে বলেছি, তাদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসতে। কোনো সরকারই আমাদের কথায় কান দেয়নি। বিশেষ করে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশের নির্লিপ্ততার সুযোগে ৮০ লাখ অটোরিকশা সড়কের দখল নিয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা খুবই দুর্বল মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার কঠোর না হলো কোনো উদ্যোগই বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করতে পারবে না।

সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ দিলে জরিমানা

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম । পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে ভবিষ্যতে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর এমনটি করলে নবায়নও করা হবে না বলে জানান তিনি।

গতকাল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার আওতায় রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। সেখানেই কিছু শর্ত দেওয়া হবে যে, তারা যে চার্জ দেবে, সেটি অবশ্যই সৌরবিদ্যুতে হতে হবে।

এখন থেকে এসব ই-রিকশার নিবন্ধন বিআরটিএ দেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নিবন্ধন দেবে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে এবং সেই আইনের আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে। ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং দেশের সব উপজেলায় ই-রিকশাকে নিবন্ধন, আইন ও নবায়নের আওতায় আনা হবে।

ঢাকায় হবে ৮ অটোরিকশা জোন

ঢাকা শহরের অটোরিকশাগুলোকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশায় আলাদা রং থাকবে। এক জোনের ই-রিকশা যেন অন্য জোনে যেতে না পারে, সেজন্য জিও ফেন্সিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে। কোন সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে এবং কোন সড়কে চলতে পারবে না, সেটিও বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। জিও ফেন্সিং ও আইন অমান্যের ক্ষেত্রে জরিমানার বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

নিবন্ধনের সময় ই-রিকশায় কিউআর কোড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিধিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক বৈঠক এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। কবে নাগাদ এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা ভেটিং করে নিয়ে বিধিমালাতে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটার কার্যকারিতা শুরু হবে ইনশাল্লাহ।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদ্যুতের ঘাটতি পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে ওঠে গত ১১ ও ১২ আগস্ট। ওই সময় সর্বোচ্চ ৩৫৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৫২৩ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট। তার আগে রাত ৯টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট। ওই সময় সরবরাহ ছিল ১৫ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট এবং ঘাটতি ছিল ৩০০৭ মেগাওয়াট। রাত ১১টায় ২৬৯৫ মেগাওয়াট এবং রাত ১২টায় ৩৫৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড হয়।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার উৎপাদন বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনতে কাজ করছে। এজন্য রাত আটটার মধ্যে সব দোকানপাট, শপিংমল ও বিপণিবিতান বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়ছে। এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন