রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নবীরন বেগম (৫৫) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, লাশটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় সংলগ্ন আখক্ষেত থেকে নবীরন বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।
নিহতের মৃত্যু নিয়ে তার ভাই আবজাল শেখের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি বক্তব্য এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, এলাকার সবার সিদ্ধান্তে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে এবং তারা লাশের ময়নাতদন্ত চান না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতদিয়া মণ্ডল হ্যাচারিজ সংলগ্ন জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড় ও আখক্ষেত কারেন্টের তার দিয়ে ঘেরা। আখক্ষেতের ভেতরে লাশ উদ্ধারের স্থানে একটি গর্ত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পুকুরপাড়ের কাছেও লাশ পুঁতে রাখার উদ্দেশ্যে গর্ত করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী নারী জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা রফিকুল মৃধার আখক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নবীরন বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় তার পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের মাথার অংশটি মাটির নিচে পুঁতে আখের পাতা দিয়ে ডেকে রাখা ছিল। তার দাবি, পুকুরপাড় ও আখক্ষেতের পাশে থাকা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৪ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে, যা স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযুক্ত আবু তালেব বেপারী ও আবজাল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইসমাইল বেপারী তা অস্বীকার করেছেন।
নিহতের ছেলে রাসেল শেখ বলেন, আমার মা ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। অর্থ লেনদেন সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।
তবে অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় তাদের বাড়ীতে কেউ নেই। তাদের ঘর-বাড়ী তালাবদ্ধ করে চলে গেছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায় নাই। তার মুঠোফোনটি বন্ধ।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পরিবার থেকে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তিনি জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

