পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অপতৎপরতার জন্য উপজাতীয়দের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দমন করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হবে না; পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।
মঙ্গলবার বিকেলে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা কর্তৃক ‘সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে এত কাজ কেন করে’—এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, মাইকেল চাকমা সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের মুখপাত্র। আমি তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—সম্প্রতি পাহাড়ে ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগে আপনারা মানুষের পাশে দাঁড়াননি কেন? আপনারা তো প্রতি মাসে রাঙামাটি অঞ্চল থেকে ১৫-২০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেন, এর কোনো ১ টাকাও তো জনগণের কল্যাণে খরচ করেননি।
সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী পাহাড়ের মানুষকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে। তাই পাহাড়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আত্মকর্মসংস্থানসহ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনী নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
ইউপিডিএফকে উদ্দেশ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ‘আপনারা জনগণকে আর বিভ্রান্ত করবেন না। সেই দিন আর নেই। মানুষ এখন সব বোঝে কে কী করে। ইউপিডিএফকে দমনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়বে না। সাধারণ মানুষই আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’
রাঙামাটি রিজিয়নের উদ্যোগে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলার ১০টি উপজেলা থেকে ১০টি দল অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সালেহ আহম্মদ, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, রাঙামাটি জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আলীম এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্রোসহ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

