ভেঙে দেওয়া হলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ

স্পোর্টস রিপোর্টার

ভেঙে দেওয়া হলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ

বিসিবির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ। আজ মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। সঙ্গে বিসিবি পরিচালনার জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ সদস্যের এই অ্যাডহক কমিটির প্রধান করা হয়েছে তামিম ইকবালকে। ৩৭ বছর বয়সি তামিম বিসিবির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান। অ্যাডহক কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে বিসিবিতে নির্বাচনের আয়োজন করবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত বছরের অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন আমিনুল এহসান। বিসিবি নির্বাচনে তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এনএসসি থেকে মনোনয়ন পান দুজন পরিচালক। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক জানিয়েছেন, সব ক্যাটাগরির নির্বাচনেই অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নীতিমালার ২১ ধারা মোতাবেক পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএসসি। ওই ধারা অনুযায়ী, অধীনস্থ কোনো ক্রীড়া সংস্থায় অনিয়ম খুঁজে পেলে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে এনএসসি।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে তারা বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন দেবেন। তবে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের কোনো পরিষ্কার উত্তর দেননি তিনি। তবে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসি থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এনএসসির ওই পরিচালক। বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আইসিসিকে আগেই ই-মেইলে জানানো হয়েছে বলে জানান এনএসসির ওই পরিচালক।

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ‘অযৌক্তিক’ হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বিসিবির সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও তার এপিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে তদন্ত কমিটি।

গত ৬ অক্টোবর বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। বিসিবির সেই পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার কমিটি ভেঙে দেওয়ার আগে সাতজন পরিচালক আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। এতেই বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন বুলবুল। আর ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের বয়কটেও স্থবির হয়ে পড়েছিল দেশের সব ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গী হয়েছেন দুই সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন ও আতহার আলী খান। কমিটির চারজন বিএনপি নেতাদের স্ত্রী বা পুত্র। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য এবং বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ ও ইসরাফিল খসরু যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের পুত্র।

কমিটিতে আরো রয়েছেন বিভিন্ন সময়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে কাজ করা তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা। তাদের মধ্যে তানজিল চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা এবং ফাহিম সিনহা অ্যাকমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক। আর ফাহিম সিনহা সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডেও পরিচালক ছিলেন।

১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি : তামিম ইকবাল (সভাপতি), ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতাহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, রাশনা ইমাম।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...