বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) কেন্দ্র করে খণ্ডকালীন বা সাময়িক কোনো পরিবর্তন নয়, বরং টুর্নামেন্টটিকে সুশৃঙ্খল ও পেশাদার কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে অংশগ্রহণকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) তারা একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে—অন্তত পাঁচ বছরের একটি নিরেট সময়সূচি ও নীতিমালা না থাকলে এই টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক ও খেলার গুণগত মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা। বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদিক, ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদসহ রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিপিএলের বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। বিসিবির সঙ্গে এ বছর বিপিএল হোক চায় না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও।
ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিরা বিপিএলের সামগ্রিক সংস্কার, স্বচ্ছ নীতিমালা, নির্ধারিত সময়সূচি, নির্ভরযোগ্য আর্থিক কাঠামো এবং দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওনা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দাবি জানান। প্রতিবছর শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের নিয়ম ও ক্যালেন্ডার বদলানোর কারণে স্পন্সর সংগ্রহ এবং দল গঠনে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা নিরসনে স্থায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি ও পাঁচ বছরের নিশ্চিত বর্ষপঞ্জি এখন সময়ের দাবি।
রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহী মোকসেদুল কামাল বাবু বলেন, ‘বিপিএল বন্ধ হচ্ছে না, বিপিএলের বলতে পারেন সংস্কার হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের যেসব নীতিমালা ছিল, সেগুলো যারা পূরণ করেছেন, সেসব ফ্র্যাঞ্চাইজি অবশ্যই থাকবে।’
বিপিএলের জন্য টেকসই মডেল তৈরির ওপর জোর দিয়ে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদিক বলেন, ‘নেক্সট যেদিনই বিপিএল হবে, সেখান থেকে একটা পাঁচ বছরের ক্যালেন্ডার আমরা চেয়েছি। কারণ আমরা যখন প্লেয়ারদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করতে যাই, ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি মার্কেটে অন্তত ২০টা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চলে। সেখানে আমাদের বিপিএল সবচেয়ে কম প্রায়োরিটি পায়। আমরা যখন টপ ক্লাস প্লেয়ারদের আনতে চাই, তখন এই জায়গাটাতে একটা ৫ বছরের ক্যালেন্ডার প্রয়োজন।’
বিসিবি কর্তৃপক্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর এই অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপিএলকে কেবল একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে না রেখে আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে তারা বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের পথে হাঁটছে। আয়োজনকে মানসম্মত ও প্রভাবমুক্ত করতে বিসিবি তাদের আগের রোডম্যাপ পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে প্রস্তুত।
এ লক্ষ্যে বিসিবি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তাড়াহুড়ো করে নিম্নমানের বিপিএল আয়োজনের কোনো ইচ্ছে তাদের নেই। সুষ্ঠু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে এবং খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে যদি কিছুটা সময় লাগে, তবে বোর্ড তাতে রাজি। এমনকি শতভাগ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার স্বার্থে চলতি বছরের নির্ধারিত সূচি পিছিয়ে আগামী বছর থেকে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ রূপে বিপিএল আয়োজনের প্রস্তাবও বিসিবির আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

