বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো। এ ম্যাচ খেলতে নামার আগে মাঠের বাইরের নানা সমস্যার মুখোমুখি ইংল্যান্ড। মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই তাদের এক প্রকার বৈরী পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে আগামী সোমবার ভোর ৬টায় এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে শুধু স্থানীয় সমর্থকদের বৈরিতা নয়, আবহাওয়া, উচ্চতা এবং গুপ্তচরবৃত্তির মতো একাধিক অদৃশ্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হচ্ছে টমাস টুখেলের শিষ্যদের।
ইংল্যান্ড দল যে হোটেলে অবস্থান করছে, তা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার দলটির কোচ হোটেলের সামনে পৌঁছানো মাত্রই শত শত মেক্সিকান সমর্থক ইংল্যান্ড দলকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো ধ্বনি দিতে থাকে এবং মেক্সিকোর পক্ষে স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ড এবং দাঙ্গা পুলিশকে হোটেলের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিতে হয়েছে।
এর আগে শেষ ৩২-এর ম্যাচে এই মেক্সিকো সিটিতেই মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়েছিল ইকুয়েডর। সেই সময় স্থানীয় সমর্থকরা গভীর রাতে ইকুয়েডর দলের হোটেলের সামনে লাউড স্পিকার, হর্ন এবং মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ করে খেলোয়াড়দের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। ওই ম্যাচে ইকুয়েডর ২-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় এবং পরবর্তী সময়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে। ইংল্যান্ড দলকেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমর্থকদের এই রাতের বেলার উৎপাত এবং মেক্সিকো সিটির উচ্চতাজনিত কারণে যেন খেলোয়াড়দের ঘুমের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ইংল্যান্ডের মেডিকেল ও ব্যাকরুম স্টাফরা। খেলোয়াড়দের জন্য প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ এবং হোয়াইট নয়েজ মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক খেলোয়াড় নিজেদের উদ্যোগে ইয়ার প্লাগ এবং স্লিপ ব্যান্ড সঙ্গে এনেছেন। দলের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার মরগান রজার্স এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি কথাটাই বলব-এই শব্দের কারণে যদি আমার ঘুম ভেঙে যায়, তবে আমি মোটেও খুশি হব না। দেখা যাক কী হয়, তবে আমরা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালোভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করব। এটি আমাদের সামনে আরো একটি বাধা, যা আমাদের অতিক্রম করতে হবে এবং আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’
মেক্সিকো সিটির আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থান ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই শহরে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় খেলোয়াড়দের দ্রুত ক্লান্তি আসার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া উচ্চতাজনিত কারণে অনেকেরই অনিদ্রা রোগ দেখা দেয়, যা রাতের বেলার কোলাহলের সঙ্গে যোগ হয়ে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি দলের রণকৌশল ফাঁসের মতো গুঞ্জনও টুখেলের দলের অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
মেক্সিকো সিটিতে ম্যাচের সময় ভারী বজ্রঝড় ও তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিফা কর্তৃপক্ষ মেক্সিকান এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে দফায় দফায় জরুরি বৈঠকে বসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচটি ছয় ঘণ্টা এগিয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় নিয়ে আসার একটি জোরালো প্রস্তাব করা হয়েছিল। গুঞ্জন উঠেছিল, এই ম্যাচের সময় বদলালে একই দিনে হতে যাওয়া ব্রাজিল ও নরওয়ের ম্যাচের সময়েও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দুই দলের লজিস্টিকস সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচারসহ নানা জটিলতার কারণে সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে মাঠের বাইরের এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে ইংল্যান্ড কীভাবে নিজেদের ধরে রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

