বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দলের এই জয় ছাপিয়ে এখন ফুটবল অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগানের বিতর্কিত লাল কার্ড এবং রেফারিদের তথাকথিত ‘দ্বিমুখী নীতি’।
ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়া বালোগান ৬৪ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ঘটনার সূত্রপাত ৬২ মিনিটে, যখন বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে বাধা দিতে গিয়ে বালোগানের ডান পা মুহারেমোভিচের গোড়ালির পেছনে লেগে যায়। রেফারি শুরুতে ফাউলের বাঁশি না বাজালেও পরে ভিএআর কর্মকর্তাদের পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
এমন সিদ্ধান্ত ফুটবল ভক্ত ও ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রায় একই ধরনের একটি ফাউল নিয়ে, যেখানে মেসি পার পেয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাচের পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউল ধরলেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি, এমনকি ভিএআরও নীরব ছিল।
বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘সবাই নিয়মের একই প্রয়োগ দেখতে চায়। মেসির সেই ট্যাকল খতিয়েই দেখা হলো না, আর এখানে আচমকা লাল কার্ড দেওয়া হলো। এই আলাদা নিয়মই সবাইকে হতাশ করে।’
সাবেক নারী ফুটবলার সু স্মিথ জানান, ঘটনাটি স্লো মোশনে বা ফ্রেমে আটকে দেখলে লাল কার্ড মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে এটি বড্ড কঠোর সিদ্ধান্ত এবং দুর্ভাগ্যবশত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসি এবং বর্তমান কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। পচেত্তিনোর দাবি, বালোগানের আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং মেসি বা বালোগান কারো ট্যাকলই লাল কার্ডের যোগ্য ছিল না। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠের বাইরে থাকতে হবে বালোগানকে, যা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বড় ধাক্কা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

