ব্যর্থতার দায়ে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে কোচদের পদত্যাগের মিছিল

নজরুল ইসলাম

ব্যর্থতার দায়ে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে কোচদের পদত্যাগের মিছিল

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু মাঠে খেলোয়াড়দের জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, ডাগআউটে বসে থাকা মাস্টারমাইন্ড বা কোচদের জন্যও এটি অগ্নিপরীক্ষার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। কোটি ভক্তের প্রত্যাশার চাপ এবং দেশের ফুটবল বোর্ডের আকাশচুম্বী লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন কিংবা বিদায়ের পরপরই গুনতে হয় চরম খেসারত। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ইতোমধ্যে সাত দেশের ডাগআউটে এসেছে বড় পরিবর্তন; যার মধ্যে ছয়জন কোচ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এবং একজনকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে।
নিচে এবারের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়ে বিদায় নেওয়া কোচদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো :

রোনাল্ড কোম্যান (নেদারল্যান্ডস) : এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত বিদায় ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যানের। শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে টুর্নামেন্টে এলেও ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ মরক্কোর কাছে হেরে স্তব্ধ হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এই হতাশাজনক বিদায়ের পর ডাগআউট ছাড়ার ঘোষণা দেন কোম্যান। ফলে নতুন কোচের সন্ধানে নামতে হচ্ছে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে।

সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে (ইকুয়েডর) : কোম্যানের মতোই রাউন্ড অব ৩২ থেকে দলের বিদায়ের পর দায়িত্ব ছেড়েছেন ইকুয়েডরের আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ইকুয়েডর। প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশনও তার সঙ্গে চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, যার কারণে পদত্যাগ করেন তিনি।

স্টিভ ক্লার্ক (স্কটল্যান্ড) : স্কটিশ ফুটবলে দীর্ঘ সাত বছরের এক সফল ও ইতিবাচক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে এ বিশ্বকাপে। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া স্টিভ ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড অনেক উন্নতি করলেও এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। এ ব্যর্থতার পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান ক্লার্ক।

মার্সেলো বিয়েলসা (উরুগুয়ে) : দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের এবারের বিশ্বকাপযাত্রা ছিল চরম বিপর্যয়কর। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। স্পেনের কাছে হারের পাশাপাশি সৌদি আরব ও টুর্নামেন্টের নবাগত দল কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নেয় উরুগুয়ে। এ ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেন অভিজ্ঞ কোচ মার্সেলো বিয়েলসা।

হং মিউং-বো (দক্ষিণ কোরিয়া) : দল আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন দক্ষিণ কোরিয়ার এই সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার। অবশেষে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে এবং দেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন।

মিরোস্লাভ কুবেক (চেক প্রজাতন্ত্র) : গ্রুপ পর্বেই দলের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কুবেক। তার অধীনে খেলা শেষ সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পাওয়ায় তাকে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

সাব্রি লামুশি (তিউনিসিয়া) : এবারের বিশ্বকাপে একমাত্র বরখাস্ত হওয়া কোচ হলেন তিউনিসিয়ার সাব্রি লামুশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় তিউনিসিয়া। এই লজ্জাজনক হারের পর তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন মুহূর্ত দেরি না করে লামুশিকে ছাঁটাই করে। তার পরিবর্তে দলটির নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ এরভে রেনারকে।


বিশ্বকাপ ফুটবল যে কতটা নির্মম, তা আরো একবার প্রমাণ করল এ টুর্নামেন্ট। মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলাররা ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত বলির পাঁঠা হতে হয় কোচদেরই। যে সাতটি দল তাদের প্রধান কোচ হারিয়েছে, টুর্নামেন্ট শেষে নতুন করে দল গোছানো এবং আগামী দিনের জন্য নতুন রণকৌশল তৈরি করাই এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন