চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বাস ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ ও ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজার এলাকায় রাজীব পরিবহনের দুটি বাস আটকে একদল লোক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাসের চালক ও সহযোগীদের মারধর এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, হামলার ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা বাস চালাবেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত রাজীব পরিবহনের চালক মিলন আহমেদ বলেন, নান্দিনা বাজারে আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা ও বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমরা গাড়ি চালাব না।
জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ বলেন, বুধবার সকালে জামালপুরগামী ও ঢাকাগামী দুটি বাসে হামলার পর শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তবে বাস ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে একটি আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজীব পরিবহনের বাসের একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার অভিযোগ তুলে নিরাপদ সড়ক এবং রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বুধবার সকালে নান্দিনা বাজার এলাকায় ছাত্র-জনতা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাসগুলোর বেপরোয়া চলাচল ও একের পর এক দুর্ঘটনার কারণে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই তারা পরিবহনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ ও ঢাকাগামী সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। হঠাৎ করে বাস বন্ধ হওয়ায় অনেকে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করছেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলেন, তারা নিরাপদ সড়কের দাবির বিরোধিতা করছেন না। তবে কোনো ঘটনার প্রতিবাদে বাস ভাঙচুর কিংবা শ্রমিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে অভিযুক্ত পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

