কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারের সেই অতিমানবীয় সেভ কিংবা শেষ মুহূর্তে রানডাল কোলো মুয়ানির শট আটকে দেওয়া—আর্জেন্টাইনদের হৃদয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ মানেই এক পরম ভরসার নাম। সেই ভরসার প্রতীক এখন লড়ছেন এক কঠিন চোটের বিরুদ্ধে। ডান হাতের অনামিকায় চিড় নিয়েই পোস্টের নিচে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর আর্জেন্টাইন এই অতন্দ্র প্রহরী। রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়ে আবারও নিজের ইস্পাতকঠিন মানসিকতার প্রমাণ দিলেন এই আর্জেন্টাইন বাজপাখি।
মার্টিনেজের এই ইনজুরি অবশ্য নতুন নয়। গত মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে ওয়ার্মআপের সময় তার ডান হাতের আঙুলে ফ্র্যাকচার হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও মার্টিনেজ তা নাকচ করে দেন। কারণ একটাই—অস্ত্রোপচার করালে দীর্ঘদিনের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হতো, যা তাকে স্বপ্নের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিত। দেশের জন্য সেই ঝুঁকি নিয়ে স্প্লিন্ট ও ফিজিওথেরাপির ওপর ভরসা রাখেন। বর্তমানে জাতীয় দলের ফিজিওথেরাপিস্ট পাবলো কাপুচেত্তির অধীনে চলছে তার পুনর্বাসন।
জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারানোর পর মার্টিনেজ তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘আঙুলের ব্যথাটা সত্যিই খুব ভোগাচ্ছে। এখনো শতভাগ স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারছি না। তবে ভালো বিষয় হলো, নতুন করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ছে না। আমি এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, আগামী ম্যাচে স্প্লিন্ট ছাড়াই মাঠে নামব।’
সংকটময় এ সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ মেলবন্ধন মার্টিনেজকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন গোলকিপিং কোচ লুইস মার্তিন ও দলের অন্য দুই গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি আর হুয়ান মুসোর নাম। মার্টিনেজের ভাষ্যমতে, মাঠ ও মাঠের বাইরে তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা এবং ইতিবাচক মনোভাবই তাকে দ্রুত মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তুলেছে।
আগামী শনিবার ভোর ৪টায় মিয়ামির ঐতিহ্যবাহী হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেওয়ার পক্ষপাতী নন মার্টিনেজ। এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক অঘটনের চিত্র তুলে ধরে দলকে সতর্ক করেছেন। জানান, কেপ ভার্দের শারীরিক সক্ষমতা, জমাট রক্ষণভাগ এবং গতিশীল ফুটবল তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
আঙুলের তীব্র ব্যথাকে এক পাশে সরিয়ে মার্টিনেজের এই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি ভক্তদের মনেও জাগিয়ে তুলছে নতুন উন্মাদনা। দেশের জার্সিতে মার্টিনেজের এই আত্মত্যাগ আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার পথকে কতটা মসৃণ করে- এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

