শিরোপা খুঁইয়ে মাঠেই ‘লজ্জাজনক’ কাণ্ড পারদেসের, গাভিকে মেরে দেখলেন লাল কার্ড

শিরোপা খুঁইয়ে মাঠেই ‘লজ্জাজনক’ কাণ্ড পারদেসের, গাভিকে মেরে দেখলেন লাল কার্ড

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন। তবে সেই আনন্দের মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠ। হতাশ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্পেনের ফুটবলারদের বাগ্‌বিতণ্ডা একপর্যায়ে হাতাহাতির রূপ নেয়, যার কেন্দ্রে ছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও বদলি বেঞ্চের সদস্যরা মাঠে নেমে উদযাপন শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বর্ণনায় দেখা যায়, স্পেনের উদযাপনের মধ্যে হঠাৎ করেই গাভির দিকে তেড়ে যান আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার পারেদেস। একপর্যায়ে তিনি গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ঘটনাস্থলে ছুটে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাঠজুড়ে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে এই ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উসকানি বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি কেন পারেদেস হঠাৎ এতটা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ১২০ মিনিটের অত্যন্ত শারীরিক ও স্নায়ুচাপের লড়াই, অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম এবং শিরোপা হারানোর হতাশাই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই মাঠে ছুটে আসেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি নিজের খেলোয়াড়দের সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও শাস্তি পাওয়ায় পারেদেসের হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ফাইনালজুড়েই উত্তেজনার কমতি ছিল না। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে পিছিয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায়। সেই হতাশারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় শেষ বাঁশির পরের বিশৃঙ্খল ঘটনায়।

ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ম্যাচ-পরবর্তী এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। তবে সম্ভাব্য কোনো অতিরিক্ত শাস্তি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন