‘আমরা সবকিছু জিতেছি, একেবারেই সবকিছু’

‘আমরা সবকিছু জিতেছি, একেবারেই সবকিছু’

আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দলের ইস্পাতকঠিন একতা এবং ‘দলগত মনোভাব’। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এমনটাই জানালেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

৬৫ বছর বয়সে স্পেনকে বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দিয়ে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়লেন দে লা ফুয়েন্তে। নতুন এই ইতিহাসের আগে তিনি স্পেনকে ইউরো ২০২৪-এর শিরোপাও জিতিয়েছিলেন। বর্তমানে তার দল সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ৩৮টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে, যা ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার যেকোনো দলের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতীতে মানুষ ফুটবলারদের প্রতিভাবান, দক্ষ এবং ভালো মানুষ হওয়া দেখে অবাক হতো। কিন্তু আমরাই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল, আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সংহতি ও মূল্যবোধের কারণে।’

বিজ্ঞাপন

স্পেন অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণাত্মক আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। ইনজুরি টাইমে (৯০+৩ মিনিটে) আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। পরে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের কাছ থেকে আসে জয়সূচক গোলটি, যা টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের দলগত মানসিকতারই একটি প্রমাণ। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ফুটবলারদের এই প্রজন্মকে নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত, যারা এই দর্শনকে বুকে নিয়ে বড় হয়েছে, বিশ্বাস রেখেছে, এটিকে আরো উন্নত করেছে এবং একটি দল ও পরিবার হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তারা অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী বিশ্বমানের ফুটবলার।’

বিশ্ব জয়ী স্পেন কোচ আরো যোগ করেন, ‘আমি সত্যিই খুব আবেগাপ্লুত। পেছনের দিকে তাকালে এবং ওদের কথা ভাবলে মনে হয়- এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবকিছু জিতেছি, একেবারেই সবকিছু।’

২০৩০ সালের টুর্নামেন্টে কোচ হিসেবে থাকবেন কি না জানতে চাইলে দে লা ফুয়েন্তে জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কিছুটা সময় নেবেন। এ নিয়ে বলেন, ‘আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম সেখানেই আছি, আমাদের খেলোয়াড়দের পেয়ে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমাদের কোনো তাড়া নেই, আমাদের এখন এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে হবে। হয়তো আমরা সেপ্টেম্বর এবং পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবছি, তবে এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন, আসুন আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যাই।’

ম্যাচজয়ী তোরেস বলেন, দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে দারুণ খুশি। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি গোল, যা ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ মিলে করেছে- এটি কেবল আমার বা ২৬ জন খেলোয়াড়ের নয়। এটি ভাগ্যেই লেখা ছিল; এটিই জয়সূচক গোল হওয়ার কথা ছিল।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘ফাইনালই কঠিন হয়, আর যখন আপনি মেসির বিপক্ষে খেলবেন, তখন কিছুটা নার্ভাস লাগা স্বাভাবিক। তবে আমরা তুলনামূলক ভালো ফুটবল খেলেছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন