কিশোরগঞ্জের হাওড়বেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওড়ের আদমপুর কাটাগাং এলাকা থেকে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির একটি মৃত গাঙ্গেয় শুশুক উদ্ধার করা হয়েছে। পরে প্রাণীটিকে কেটে তেল সংগ্রহের জন্য স্থানীয় জেলেরা নিজেদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মধ্যঅষ্টগ্রাম রংপুর হাটি এলাকার শওকত মিয়ার ছেলে তর্জু মিয়া গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বড় হাওড়ের ইকুরদিয়া-মেঘনা সংযোগস্থল আদমপুর কাটাগাং এলাকায় মাছ ধরতে যান। নদী থেকে ফেরার পথে তিনি পানিতে ভাসমান অবস্থায় মৃত শুশুকটি দেখতে পান এবং উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। বিরল প্রজাতির এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে একনজর দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। তবে যথাযথ সংরক্ষণ বা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর না করে চর্বি থেকে তেল তৈরির জন্য স্থানীয় জেলেরা প্রাণীটিকে কেটে ভাগ করে নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরই তার কার্যালয় থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী শুশুক বাংলাদেশের একটি সুরক্ষিত ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী।
এটি ধরা, হত্যা করা কিংবা এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা অপরিসীম হলেও স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে প্রাণীটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরো জানান, মূল আইন বাস্তবায়নে বন অধিদপ্তর কাজ করলেও মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন অভিযান ও তদারকির সময় জনগণকে এ বিষয়ে নিয়মিত সচেতন করে থাকে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

