শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বমঞ্চে এটিই থ্রি লায়ন্সদের সেরা ফুটবলীয় অর্জন। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরও ফুটবলপাড়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় থামছে না। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে দলের নাটকীয় পরাজয়ের পর কোচ টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল ও ট্যাকটিকস নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের একাংশ তীব্র সমালোচনায় মেতে উঠেছেন।
এই চরম সমালোচনার মুখে দলের পক্ষে শক্ত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক ডেক্লান রাইস। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সমালোচকদের কড়া জবাব দেন এবং এই দলটিকে নিয়ে নিজের অগাধ বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাইস অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, বর্তমান ইংল্যান্ড দলটি বিগত বহু বছরের মধ্যে সেরা এবং বড় কোনো টুর্নামেন্টের ট্রফি জয় এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।
টুখেলের রণকৌশল নিয়ে চলমান বিতর্ককে এক পাশে সরিয়ে রেখে রাইস দলের ফুটবলারদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মানসিকতার প্রশংসা করেন। মাঠের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের বেদনা থাকলেও বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় হওয়া যে কোনো দলের জন্যই এক বিশাল প্রাপ্তি। রাইস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডের সেরা দল। এটি একটি প্রমাণিত সত্য এবং আমাদের এই গৌরবময় অর্জনকে কেউ খাটো করে দেখতে পারবে না।’
ফুটবলে হার-জিতের পেছনে মাঠের ভেতরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে। রাইসের মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিতে কোনো কাঠামোগত বিপর্যয় ছিল না, বরং ডি-বক্সের ভেতরে ছোট কিছু ভুল এবং ভাগ্যের সামান্য ফেরে তাদের ম্যাচটি হারতে হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ড ফুটবল দল ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টগুলোর শেষ প্রান্তে পৌঁছাচ্ছে। কখনো কোয়ার্টার ফাইনাল, কখনো সেমিফাইনাল কিংবা ইউরোর ফাইনালÑদলটি বারবার ট্রফির কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে। রাইস জানান, তারা বারবার ‘আমরা গর্বিত’Ñএই সান্ত্বনাবাক্য শুনতে শুনতে ক্লান্ত। এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জয় করা।
ডেক্লান রাইসের এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমের ইতিবাচক পরিবেশকেই নির্দেশ করে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ছয় গোল করার নজির প্রমাণ করে যে, এই দলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী ও কার্যকরী। সমালোচকরা কৌশলগত ঘাটতির কথা বললেও দলের ভেতরে ফুটবলাররা একে অপরের প্রতি এবং কোচের পরিকল্পনার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল।
বিশ্বকাপের এই ব্রোঞ্জ জয়কে ব্যর্থতা নয়, বরং আগামী দিনের মহাসাফল্যের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে দেখছেন রাইস। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া এই ইংল্যান্ড দলটির যে প্রতিভা রয়েছে, তা সঠিক সময়ে জ্বলে উঠলে খুব দ্রুতই বিশ্বফুটবলের শীর্ষ মুকুটটি তাদের মাথায় উঠবে। আপাতত এই ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ জয় উদযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়াই হবে ইংল্যান্ডের মূল চ্যালেঞ্জ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

