সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এমপি বলেছেন, বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। এ নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। যোগ্য, সৎ, শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচিত করে ধ্বংসপ্রায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হবে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার অবাধ ও স্বচ্ছ হবে। এই নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। আমরা চেষ্টা করব স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম শতভাগ সক্রিয় করতে। যোগ্য, ভালো ও শিক্ষিত—যারা ধ্বংস হওয়া স্থানীয় সরকারকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন, এমন মানুষ দিয়েই যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দেব।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার—দেশের মানুষ তা জানে, বিশ্বাস করে এবং সরকারের প্রতি আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলো জনগণের চাহিদার মধ্যে রয়েছে, কিন্তু আমরা এখনো সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি। এর মধ্যে অন্যতম হলো গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের সমস্যা। এসব সমস্যা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের। এই তিনটি খাতে আমাদের পরনির্ভরশীল করে রাখা হয়েছে, যাতে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।’
বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের ক্ষেত্রে এমনভাবে সমাধান করা হবে, যাতে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আর অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, সমস্যা থেকে সমাধানের পথে যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়টা দেশের মানুষের জন্য কষ্টকর। এ কারণে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কাছে বারবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘সমস্যা ও সমাধানের এই মধ্যবর্তী সময়টুকু আমাদের সবারই কষ্ট হচ্ছে। এই কষ্টের জন্য বর্তমান সরকার, এমনকি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বারবার দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা যখন যেখানে যাই, দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করি। আমাদের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি নেই।’
দেশকে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘সবকিছু ঠিক করে একটি সুন্দর দেশ গঠনের জন্য আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শরিফুল হক, সিভিল সার্জন মশিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাত আরা ফেরদৌস, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রীফা রাওনাক নীতু, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, পিপি রুহুল আমিন তালুকদার টগর, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল মান্নাফ এবং জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলামসহ অন্যরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

