মধ্যপ্রাচ্যে চলছে সংঘাত। ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পাল্টা হামলা করছে ইরানও। এমতাবস্থায় ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মেক্সিকোর এক টিভি চ্যানেলে বলেন, ‘আমরা চাই ইরান খেলুক এবং ইরান বিশ্বকাপ খেলবে। এখানে বি, সি বা ডি বলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। আমাদের শুধু একটিই পরিকল্পনা আছে, আর তা হলো প্ল্যান এ।’
মেক্সিকোতে ইরানের ম্যাচ সরানোর পরিকল্পনার গুঞ্জন উড়িয়ে বিশ্ব ফুটবলের এই প্রধান জানান, ‘ইরান দল যেন সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতির মধ্যে’ এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করা উচিত। কারণ এই দলটি ইরানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিদেশে থাকা ইরানিদেরও প্রতিনিধিত্ব করে। ফিফা বর্তমানে ইরানের কোনো ম্যাচ মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে না।’
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগেও বলেছেন একই সুরে, ‘সূচি চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী এগোতে চাই। ফিফা কোনো রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে পারে না, তবে আমরা বিশ্বাস করি ফুটবলের শক্তি দেশগুলোর মধ্যে শান্তি ও সেতুবন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।’
সঙ্গে ইনফান্তিনো আরো যোগ করেন, ‘ইরান খেলার মাঠের যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।’ তবে স্বীকার করে নিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জটিল’।
সূচি অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা ইরানের। পরে সিয়াটলে মিসরকে মোকাবিলা করার কথা তাদের। আর ইরানের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের জন্য অ্যারিজোনার টুসান নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানান, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করছেন না, তবে নিরাপত্তার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখবেন না। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিবৃতির সূত্র ধরে বলেন, যখন খোদ যুক্তরাষ্ট্র ইরানি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না, তখন সেখানে খেলতে যাওয়া অসম্ভব। তবে বর্তমানে ইরান দল তুরস্কে প্রস্তুতি ক্যাম্প ও প্রীতি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারছে।
যদি রাজনৈতিক কারণে ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে না খেলে, তবে এটি হবে আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এর আগে ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশ অংশ নেয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো দেশ বিশ্বকাপ বয়কট বা ভেন্যু নিয়ে এমন অনড় অবস্থান নেয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

