হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর নেপাল-চীন সীমান্তে (তিব্বতে) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৬১৪ জন। দুই দেশের সরকারি তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ১ হাজার ২৮৭ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি।
ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নেপাল সর্বশেষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সীমান্তের নেপাল অংশে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ জনের খোঁজে অভিযান চলছে।
দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চৌলানি নদীর প্রবাহের পথের প্রায় অর্ধেক বন্ধ হয়ে গেছে। অব্যাহত ভূমিধসে নদীটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী, নিচু এলাকা ও আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দারচুলা জেলা প্রশাসন।
অন্যদিকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল (তিব্বত)-এ অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
দুই দেশের তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৮ জনে। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৪৪ জন বিদেশি।
গত ২৬ আগস্ট প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় নেপালের মাউন্ট লাংটাং লিরুংয়ের একটি হিমবাহে ফাটল ধরার পর এ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে, যা পরে ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়ে সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো প্লাবিত করে।
বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও কাভ্রে জেলা এবং কাঠমান্ডু উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের শিজাং অঞ্চলের গিরং সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


