আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল দলে অভিষেক হয়েছেন জাপানি বংশোদ্ভূত তরুণ খেলোয়াড় শুকি ইতোফুসার। তার বাবা আতাউর রহমান বাংলাদেশি আর মা জাপানের শিজু ইতোফুসা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল ক্লাব ফর্টিস এফসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জাপানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার। এবার বাংলাদেশের দলের হয়ে স্বপ্নের অভিষেক হলো তার। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাত্র এক ম্যাচ দিয়েই এই ২২ বছর বয়সি খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করা যাবে না। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে প্রথমবার খেলার পর ইতোফুসা বলেছেন, তার আরো উন্নতি করতে হবে। বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন না ইতোফুসা। ইংরেজিও খুব একটা জানেন না। আজ শনিবার ইন্দোনেশিয়ায় দলের অনুশীলনের ফাঁকে জাপানি ভাষায় ইতোফুসা অনেক কথাই বলেছেন।
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক ম্যাচ প্রসঙ্গে ইতোফুসা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। গতকালের (গত বুধবার) ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, এখনো কিছু জায়গায় আমার উন্নতি করার প্রয়োজন আছে। আমি আমার ফিটনেস ও কন্ডিশন আরো উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। পাশাপাশি গোল করা বা অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে দলের জন্য আরো বেশি অবদান রাখতে চাই।’ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম একাদশে ছিলেন না ইতোফুসা। ৪৬ মিনিটে ফাহামিদুল ইসলামের বদলি হিসেবে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয় তার। খুবই অল্প সময়ে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে উঠবে তার, এমনটি ভাবনায় ছিল না ইতোফুসার নিজেরও। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে কখনো এভাবে ভাবিনি, যে আমার অভিষেক হয়ে যাবে গতকাল (বুধবার)। তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম দেশের জন্য লড়তে।’
ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে কোনো প্রকার সমস্যা হয় কি না? ইতোফুসা বলেন, ‘আসলে, আমি জানি যে তারা জাপানিজ বলতে পারে না। তবে আমার সতীর্থরা ইংরেজি কিংবা সহজ কিছু ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে, যতটুকু আমি বুঝতে পারি। এছাড়া কিছু সতীর্থ সব সময় আমার খেয়াল রাখে এবং আমার সঙ্গে কথা বলে। তাই এখন আমি মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগও করছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শুধু আমার বাবা বাসায় বাংলায় কথা বলেন। বাসায় বাকি সদস্যরা, মানে আমরা জাপানিজ ভাষাতেই কথা বলি।’ দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে দূরে আছেন, তাদের কতটা মিস করেন? ইতোফুসার বলেন, ‘আসলে, পরিবার থেকে দূরে থাকা...। এটা একজন ফুটবলার হিসেবে আমার স্বপ্ন, আবার এটা আমার পরিবারেরও স্বপ্ন। পরিবার থেকে দূরে থেকে আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে সেটা আমার পরিবার এবং আরো অনেক মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনে। তাই আমি মনে করি, পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কোনো সমস্যা নয়।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

