বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামের বিদায় শুধু ফুটবল অঙ্গনেই নয়, ছুঁয়ে গেছে দেশের ক্রিকেট মহলকেও। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানার দিনে তাকে ঘিরে আবেগ আর সম্মানের মিশ্র দৃশ্য দেখা গেছে মাঠে।
শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন এই সাবেক জাতীয় অধিনায়ক। ফর্টিজের হয়ে ম্যাচটিতে ২৪ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় দুই দলের খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দিয়ে তাকে বিদায় জানান। এই সময় খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে তার বিদায়কে স্মরণীয় করে তোলা হয়।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা জানানো হয়। ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। মাঠে উপস্থিত ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসান।
মামুনুলের বিদায় ছুঁয়ে গেছে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের মনও। বিশেষ করে মুমিনুল হক সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে সাবেক এই মিডফিল্ডারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি লেখেন, “একটা বাঁ পায়ের স্পর্শ, নিখুঁত পাস আর মাঝমাঠে খেলার ছন্দ বদলে দেওয়ার শিল্প—আমাদের প্রজন্মের ফুটবলের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে হলে মামুনুলের নামই আসবে।”
মুমিনুল আরও উল্লেখ করেন, কিংস অ্যারেনায় দেওয়া গার্ড অব অনার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দশক ধরে দেশের ফুটবলে অবদান রাখা এক শিল্পীর প্রতি সম্মান। তার ভাষায়, “সব কিংবদন্তির বিদায় একরকম হয় না—মামুনুল বিদায় নিলেন ভালোবাসা, সম্মান আর স্মৃতির ভেতর দিয়ে।”
চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মামুনুলের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে। এরপর আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, চট্টগ্রাম আবাহনী ও রহমতগঞ্জ হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ফর্টিজে। জাতীয় দলের জার্সিতেও প্রায় এক দশক প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি এবং ২০১০ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।
তবে বিদায়ের মুহূর্তে কিছু আক্ষেপও ছিল তার কণ্ঠে। ছয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেও শিরোপা জেতা হয়নি—এই আক্ষেপ নিয়েই বিদায় বললেন দেশের ফুটবলের এই নন্দিত শিল্পী। তবুও শেষ বেলায় যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই স্বীকৃতি হয়ে থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

