ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন নয়। এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এ দুজন। জাতিসংঘের (ইউএন) পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বিশ্বাস বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনো এমন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, যা তাকে বৈশ্বিক পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যও যোগ্য করে তুলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্ট-কে জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন ইনফান্তিনো ‘বিশ্বজুড়ে সবার কাছে সম্মানিত’ এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্রিত করার অসাধারণ সক্ষমতা তার রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ফিফা—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা ছিল চোখে পড়ার মতো। গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ প্রদান করেন। বিশ্বকাপের ফাইনালেও নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সময় দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। ম্যাচ চলাকালে ট্রাম্প বসেছিলেন ইনফান্তিনো ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পাশে।
চলতি বছরের শেষ দিকে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনের কথা রয়েছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ডিসেম্বরে, আর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেবেন ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
তবে ইনফান্তিনোর সামনে পথ মোটেও সহজ নয়। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীকে প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনও লাগবে। পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশের ভেটোই তার প্রার্থিতা আটকে দিতে পারে। এ ছাড়া ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি অবশ্য মনে করেন, ইনফান্তিনো এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম। তার ভাষায়, ‘জাতিসংঘে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে সামলাতে হয়। ফিফায় সদস্যসংখ্যা দুইশরও বেশি। জিয়ান্নির যা অভিজ্ঞতা, এত বড় একটি বৈশ্বিক সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা তার রয়েছে।’
তবে ইনফান্তিনো সম্প্রতি বিতর্ক থেকেও মুক্ত ছিলেন না। ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কয়েকটি ফুটবল সংগঠন। পরে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
আগামী বছর ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টিও নির্ধারিত হবে। ফলে ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পদে থাকা অব্যাহত রাখবেন, নাকি বৈশ্বিক কূটনীতির নতুন মঞ্চে পা রাখবেন—সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

