মেক্সিকান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক গুইয়ের্মো ওচোয়া পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। ৪১ বছর বয়সে ২২ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টেনে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির এই কিংবদন্তি গোলকিপার।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই ওচোয়া জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শেষে নতুন কোনো ক্লাবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।
বিদায়ী বার্তায় আবেগঘন কণ্ঠে ওচোয়া লেখেন, "আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য মাঠে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। আজ আমি আমার গ্লাভস তুলে রাখলাম।"
গোলরক্ষকের দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতাও তুলে ধরেন তিনি। ওচোয়ার ভাষায়, "গোলরক্ষক হওয়ার অর্থ হলো—হয়তো একটি মুহূর্তের জন্য আপনাকে ৯০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যখন সবকিছু আপনার ওপর নির্ভর করবে। আর সেই মুহূর্ত এলে কোনো দ্বিধা করার সুযোগ থাকে না।"
২০০৪ সালে ক্লাব আমেরিকার জার্সিতে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন ওচোয়া। এরপর ইউরোপে আজাসিও, মালাগা, গ্রানাডা, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ, সালেরনিতানা, এভিএস এবং এইএল লিমাসোলের মতো ক্লাবে খেলেছেন। মাঝে কয়েক বছর আবার ক্লাব আমেরিকায় ফিরে খেলেন।
জাতীয় দলের হয়ে ওচোয়ার ক্যারিয়ারও ছিল সমান গৌরবময়। তিনি মেক্সিকোর হয়ে ছয়টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া বিরল ফুটবলারদের একজন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছিলেন দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলে থাকলেও মূলত অভিজ্ঞতার ভরসা হিসেবে স্কোয়াডে ছিলেন এবং শেষ গ্রুপ ম্যাচে স্বল্প সময়ের জন্য মাঠে নামেন।
বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন ওচোয়া। যে স্টেডিয়ামে তার আন্তর্জাতিক পথচলার অসংখ্য স্মৃতি, সেই মাঠের গোলপোস্টে চুমু খেয়ে বিদায় জানান তিনি। পরে হাঁটু গেড়ে বসে আবেগ সামলাতে দেখা যায় তাকে। সতীর্থরা এসে জড়িয়ে ধরেন, আর দর্শকেরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান মেক্সিকান ফুটবলের এই মহাতারকাকে।
ক্যারিয়ারে ক্লাব আমেরিকার হয়ে লিগ শিরোপা, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজের হয়ে বেলজিয়ান কাপ এবং মেক্সিকোর হয়ে একাধিক কনকাকাফ গোল্ড কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ওচোয়া। এছাড়া ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মেক্সিকো দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
বিদায়ী বার্তার শেষদিকে ওচোয়া লিখেছেন, "কখনো ভাবিনি একটি স্বপ্ন আমাকে এত দূর নিয়ে যাবে। আমি শুধু গর্ব নিয়েই পেছনে তাকাতে পারি এবং বলতে পারি—ধন্যবাদ। মানুষের ভালোবাসা আর মেক্সিকোর হয়ে সর্বস্ব দিতে পারার তৃপ্তিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।"
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

