হালুয়াঘাট পৌরসভায় সেবা মিলছে না

হালুয়াঘাট পৌরসভায় সেবা মিলছে না

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠার এক যুগেও মৌলিক নাগরিক সেবার অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নানা সমস্যায় জর্জরিত পৌরসভা। এতে এই পৌরবাসীর ভোগান্তির যেন শেষ নেই। নিজস্ব পৌর ভবন, ডাম্পিং স্টেশন, স্থায়ী ডাস্টবিন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সুপেয় পানির প্ল্যান্ট, আধুনিক কসাইখানা, পৌর স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা মাতৃসদন, নিজস্ব শ্মশান ও কবরস্থান—কোনোটিই নেই।

এর সঙ্গে তীব্র ড্রেনেজ সংকট ও জনবলঘাটতি বাড়িয়েছে নাগরিক ভোগান্তি। ​জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে হালুয়াঘাট পৌরসভা। ​প্রায় ২৫ হাজার মানুষের এই পৌরসভা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬ হাজার ৬০৫টি হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য উৎস থেকে মোট আয় করেছে প্রায় ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তবে রাজস্ব আদায়ের বিপরীতে নাগরিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো অপ্রতুল। পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, যেখানে ৭৫ জন নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন, সেখানে আছেন মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা দুইজন, দ্বিতীয় শ্রেণির একজন এবং কর্মচারী ছয়জন। এর বাইরে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কাজ করছেন ৩২ জন। এদের মধ্যে ঝাড়ুদার ও ময়লাবাহী ভ্যানের চালকসহ মাত্র ১৮ জন কর্মী দিয়ে চলছে শহর পরিচ্ছন্নতার কাজ। ​পৌর এলাকায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাঁচা, ১৬.৫ কিলোমিটার কার্পেটিং, সাত কিলোমিটার সিসি ও আট কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা রয়েছে। বর্ষায় এসব রাস্তার অনেকগুলোই চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। খানাখন্দে ভরা বেশকিছু রাস্তা যেন এখন মরণফাঁদ। পৌর বাজার পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌর শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দর্শা নদী শাসন করা গেলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। পৌর প্রশাসক জাকিয়া সুলতানা রোজি বলেন, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। স্থায়ী ডাস্টবিনের জন্যও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। নানা সীমাবদ্ধতার পরও বাজেট অনুযায়ী পৌর শহর আধুনিকায়নে কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন