ফিফার নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চায় ইংলিশ এফএ, চাপে ইনফান্তিনো

ফিফার নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চায় ইংলিশ এফএ, চাপে ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় থামছেই না। বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করার পর এবার ফিফার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। এ বিষয়ে উয়েফার অবস্থানকেও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ফিফা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE)’ নামে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এর আওতায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়া সদস্য দেশগুলো অতিরিক্ত অর্থ পেত। তবে পরিকল্পনাটি ঘোষণার পর থেকেই উয়েফাসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শনিবার ভোরে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। কিন্তু এতেও ক্ষোভ কমেনি। উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব শুধু তাদের নয়, বিশ্ব ফুটবল পরিবারের অনেক সদস্যের আস্থাও হারিয়েছে।

উয়েফার ভাষ্য, ২০১৬ সালে সভাপতি নির্বাচনের সময় ইনফান্তিনো ফিফাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত। সংস্থাটির অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনীয়ভাবে পরিচালনা করা হয়েছে এবং সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় উয়েফার পাশে দাঁড়িয়ে ইংলিশ এফএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা উয়েফার অবস্থানকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। এখন সময় এসেছে ফিফার নেতৃত্ব ও সুশাসনের পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পর্যালোচনা করার। বিশ্ব ফুটবল যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং ২১১টি সদস্য দেশের স্বার্থ রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) থেকেও আপত্তি জানানো হয়। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটলে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

আগামী বছর ফিফা সভাপতির নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একসময় ইনফান্তিনোকে সহজেই পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনার পর তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। আগামী নভেম্বরে প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে এবং ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতির নির্বাচন।

ফিফা বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির স্বচ্ছতা, সুশাসন ও নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক যে এখনই শেষ হচ্ছে না, ইংলিশ এফএ ও উয়েফার সর্বশেষ অবস্থান সেটিই স্পষ্ট করে দিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন