মেসির বিদায়ের রাতে রূপকথার সমাপ্তি ওতামেন্দিরও

মেসির বিদায়ের রাতে রূপকথার সমাপ্তি ওতামেন্দিরও

লিওনেল মেসির বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়ী রাতটি কেবল আর্জেন্টাইন জাদুকরের বিদায়েই স্মরণীয় হয়ে থাকেনি, একই রাতে নীল-সাদা জার্সি তুলে রেখেছেন দলের বিশ্বস্ত ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে মেসির মতোই রূপকথার মতো এক সমাপ্তি পেলেন ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা ছিল ওতামেন্দির। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশেষ অনুরোধে এবং মেসির বিদায়ী দিনে সতীর্থ হিসেবে পাশে থাকার জন্যই এই ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দলে ফিরেছিলেন তিনি। কনিষ্ঠ ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে রক্ষণভাগ সামলানোর সঙ্গে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির নিখুঁত ক্রসে পা ছুঁয়ে গোল করেন ওতামেন্দি। নিজের শেষ ম্যাচে গোল করার এই প্রাপ্তি সারা জীবন মনে রাখবেন বলে জানান তিনি।

ম্যাচ শেষে যখন ওতামেন্দি মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। সতীর্থদের সাথে আলিঙ্গনের সঙ্গে তিনি শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরেন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও। ম্যাচ শেষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৭ বছরের দীর্ঘ জাতীয় দলীয় ক্যারিয়ার এবং মেসির সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।

পরে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওতামেন্দি বলেন, ‘এই ম্যাচটা ছিল বাড়তি পাওয়া। আমি ভেবেছিলাম, বিশ্বকাপের আগের ম্যাচটিই আমার শেষ। কারণ তখনই বিদায় বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু মেসি আমাকে এখানে আসতে বলল। ওর বিদায়ের অংশ হতে, এই ঐতিহাসিক দিনটা উপভোগ করতে বলল। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছর কাটিয়েছি। আর এই ১৭ বছর ওর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারাটা ছিল অসাধারণ।’

শেষ ম্যাচে গোল করার আনন্দে ভেসেছেন, ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচে শেষ গোলটা করা এমন একটা ব্যাপার, যেটা আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

মেসির বিদায়ী ম্যাচে ওতামেন্দি হয়ে পড়েন আবেগপ্রবন, ‘ও একেবারে মাটির মানুষ। এটা ওর শেষ ম্যাচ, ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। জানতাম, এই ম্যাচটা একদিন আসবেই। একই সঙ্গে দুঃখ আর আনন্দ হচ্ছিল। কারণ ওর বিদায়টা ঠিক যেভাবে প্রাপ্য ছিল, সেভাবেই হয়েছে।’

মেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা ওর খুব কাছের মানুষ ছিলাম। হয়তো কখনো কখনো ওকে কিছু কথা বলার থাকত, কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি। কারণ তখন মনে হয়, কিছু বলার চেয়ে ওর সঙ্গে সময়টা উপভোগ করাই ভালো। আমি ওকে ধন্যবাদ জানাই। ও পৃথিবীর সবচেয়ে বিনয়ী মানুষগুলোর একজন। আর ফুটবল দিয়ে সে যা করেছে, সেটাও অবিশ্বাস্য। সে আর্জেন্টিনার পতাকাটা অনেক উঁচুতে রেখে গেছে।’

স্কালোনি যুগের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ওতামেন্দি আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ এই পথ চলায় একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। চারটি বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সব মিলিয়ে ২১টি ম্যাচ খেলে ডিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ডের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। মেসির বিদায়ের এই রাতে আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক নির্ভরযোগ্য চরিত্রের বর্ণাঢ্য অধ্যায়েরও চিরতরে সমাপ্তি হলো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন