অধিকৃত পশ্চিম তীর পরিদর্শনে যাওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুই সুইডিশ সদস্যকে ইসরাইলে প্রবেশে বাধা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সুইডেনের লেফট পার্টির সদস্য জোনাস সিওস্টেড ও হান্না গেডিনকে রোববার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলের দাবি, ওই দুই আইনপ্রণেতা ধারাবাহিকভাবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছিলেন। যার মধ্যে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও অভিযোগ করেছে, দুই এমইপি ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ ছড়িয়েছেন। এর মধ্যে গণহত্যা, ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে অনাহারে রাখা এবং শিশু ও চিকিৎসাকর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে।
তবে দুই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তারা সেভ দ্য চিলড্রেনসহ মানবাধিকার ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছিলেন। সিওস্টেড একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম না, এবং তিনি আরো যোগ করেন যে ইসরায়েলে অবস্থিত ইইউ এবং সুইডিশ দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।’
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জোনাস শ্যোস্টেডট বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলাম না।’ তিনি আরো জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইইউ ও সুইডেনের দূতাবাসগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে জাতিসংঘের তদন্তকারীরাও রয়েছেন। গত জুনে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ইসরাইলকে চলমান গণহত্যার অংশ হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল কাউন্সিলের সভাপতি রাউহি ফাত্তুহ ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নীরবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং দখলদারিত্বের সমালোচনাকে অপরাধে পরিণত করার চেষ্টা’।
এর আগে ২০১৯ সালে ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে ইসরাইলি নীতির কঠোর সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তলাইব ও ইলহান ওমরকেও ইসরাইলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


