মে মাসের অর্ধেক সময় চলে গেছে। আগামী জুনের শুরুতেই বসতে যাচ্ছে ফুটবলের বিশ্বকাপ আসর। হাতে সময় খুবই কম। কিন্তু এমন সময় এসে বেকায়দায় পড়েছে বিশ্বমঞ্চের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে দেশটিতে। বেতন বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার রাস্তায় নেমেছিলেন মেক্সিকোর সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের মাঝে গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনের জন্য শিক্ষক দিবসকে কাজে লাগিয়েছে দেশটির জাতীয় শিক্ষক ইউনিয়ন ‘ন্যাশনাল এডুকেশন ওয়ার্কার্স’। সংস্থাটির প্রায় তিন হাজার সদস্য রাজধানী মেক্সিকো সিটির সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের সে প্রচেষ্টা রুখে দেয়।
আন্দোলনকারীদের একজনের হাতের ব্যানারে লেখা ছিলÑ‘শিক্ষা এখন আর অগ্রাধিকার নয়; বরং বিশ্বকাপে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসাই এখন মুখ্য।’ মিছিলে এক বিক্ষোভকারী অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানান, ফুটবল নিয়ে মেতে উঠেন ড্রিবলিংয়ে।
সরকার ও শিক্ষক ইউনিয়নের মূল নেতৃত্ব ৯ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ইউনিয়নের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের বড় একটি অংশ বিদ্রোহ করেছে। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শতভাগ (১০০%) বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে তারা। মেক্সিকোয় একজন সরকারি স্কুলশিক্ষক মাসে বেতন পান প্রায় ৯৬৭ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার টাকা।
মেক্সিকান শিক্ষকদের এ আন্দোলন আর হুমকিকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সবাই। কেননা, অতীতে বিভিন্ন দাবিতে টানা কয়েক দিন রাজধানী মেক্সিকো সিটি কার্যত অচল করে ফেলেছিলেন শিক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মেক্সিকো। ধারণা করা হচ্ছে, এ উপলক্ষে দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষকদের আন্দোলনের হুমকি দেশটির সরকারকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

