লেবাননে ইসরাইলি হামলায় তিন বছরে নিহত প্রায় ৯ হাজার

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় তিন বছরে নিহত প্রায় ৯ হাজার

লেবাননে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরো ৩০ হাজার ৫৯৫ জন। শনিবার লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৫৮ জন এবং আহতদের মধ্যে ১২ হাজার ৩৫৯ জনের ঘটনা গত ২ মার্চের পর ঘটেছে। ওই সময় থেকেই লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান আরো তীব্র হয়।

জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবার প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসাসেবার কর্মীরা ১৭৯ বার হামলার শিকার হয়েছেন। এসব হামলায় ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

২ মার্চ বৈরুতে একটি ইসরাইলি হামলায় ৩১ জন নিহত হওয়ার পর লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর আগে উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর একটি রকেট হামলা হয়েছিল।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টেও ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে লেবাননে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২২ হাজার মানুষ বিভিন্ন সমষ্টিগত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

এদিকে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুটি ‘শান্তি’ কাঠামোতে সম্মতি হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরাইল সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং সেখানে একটি ‘বাফার জোন’ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছে।

২৬ জুনের কাঠামো অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল। তবে হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম ওই কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অকার্যকর’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, ইসরাইলকে আগে দক্ষিণ লেবানন থেকে সামরিক দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে। তবে ওই চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের কাফর রেমান শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, কৌশলগত আলী আল-তাহের সেতুর নিচে সুড়ঙ্গে থাকা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়।

এদিন লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, টায়ার ও নাবাতিয়েহ জেলার সাতটি শহর ও এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ হয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এরপর রোববার ভোরেও দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন