উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মিশন শুরু আজ বাংলাদেশের

বাস্তবতার মঞ্চে মেয়েদের শেখার লড়াই

বাস্তবতার মঞ্চে মেয়েদের শেখার লড়াই

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের পর্দা উঠছে আগামী শনিবার। তার আগেই ফুটবল ইভেন্টের খেলা আজ মাঠে গড়াচ্ছে। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আজ দুপুর ১টায় উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ার অন্যতম সেরা শক্তির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোনো অবাস্তব স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়েই ছক কষছেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার।

‘এফ’ গ্রুপের চার দলের মধ্যে র‍্যাংকিং ও শক্তিমত্তায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তিনবারের এশিয়ান গেমস জয়ী উত্তর কোরিয়া এবং তিনবারের ব্রোঞ্জজয়ী দক্ষিণ কোরিয়া মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে মিয়ানমারও অনেকটা এগিয়ে বাংলাদেশ থেকে।

বিজ্ঞাপন

কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে দেশের মেয়েদের কোনো ধরনের স্নায়ুচাপে রাখতে নারাজ কোচ। চমৎকার সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্বমানের মাঠে খেলার সুযোগটি মেয়েদের কেবল উপভোগ করারই পরামর্শ তার। কোরিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে নামার আগে কোচ বাটলার রাখলেন স্পষ্ট বার্তা, ‘বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি আমরা। আমরা ভালো করেই জানি, এমন একটি গ্রুপে খেলছি যেখানে এশিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর দুটি—উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আছে। এমনকি র‍্যাংকিংয়ে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই।’

ফুটবলে কোরিয়া ও বাংলাদেশের ব্যবধানটা অনেক। কোচ বাটলারের মতে, এই তফাত ‘আকাশ-পাতাল’। এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাই অলীক স্বপ্ন দেখতে চান না বাংলাদেশ কোচ। বরং বাস্তবতা মেনে বাটলার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচে জয়ের কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি। তবু তার লক্ষ্য এখন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া এবং দলের সম্মান বাঁচানো। তাই তো বাটলারের কথায় ছিল বাস্তবতার সুর। তিনি বলেন, ‘নিজেদের প্রতি সৎ থেকে বলতে গেলে এই ম্যাচে আমাদের জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও কেউ দেখছে না। বাস্তবতাও হয়তো সেটাই। বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে কোরিয়ার ফুটবলের কোনো তুলনা চলে না। দুই দেশের ফুটবলের তফাতটা আসলে আকাশ-পাতাল।’

বাংলাদেশের মাঠের প্রতিপক্ষের কোনো কিছুরই কমতি নেই। এ নিয়ে আক্ষেপ করে কোচ আরো যোগ করেন বলেন, ‘কোরিয়ার দলে অত্যন্ত মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের রয়েছে পর্যাপ্ত ফান্ড ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মধ্য দিয়ে তাদের ফুটবল আজকের পর্যায়ে এসেছে।’

গত মার্চে এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। তবে এবার ফল যাই হোক না কেন, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে তরুণদের সুযোগ দিতে চান কোচ। বাটলারের ভাষায়, ‘দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণ মেয়েকে সুযোগ দেব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড় মঞ্চের সুযোগগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন করা।’

দেশের ফুটবলের কাঠামো ও বাস্তবতা মেনে নিয়ে কোচ বাটলার জোর দিচ্ছেন প্রক্রিয়াটির ওপর। তিনি মনে করিয়ে দেন দেশের ঘরোয়া লিগের নাজুক চিত্রটি, ‘গত এশিয়ান কাপে আমরা তাদের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিলাম। সেবার আমরা মোটেও ভালো খেলতে পারিনি, তবে সেই হার আমাদের তরুণ মেয়েদের জন্য বড় একটি শেখার অভিজ্ঞতা ছিল। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

তাই মাঠে নামার আগেই হাল ছেড়ে দিতে নারাজ কোচ। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক ও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। দেখা যাক, এই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে আমাদের কতটা কাজে দেয়।’

আয়োজক জাপানের আতিথেয়তায়ও দারুণ খুশি বাটলার বলেন, ‘আমাদের যে আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তা সত্যিই চমৎকার। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই, সবকিছুই খুব ইতিবাচক। দুর্ভাগ্যবশত কাল হয়তো স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি দর্শক থাকবে না। তবে এমন চমৎকার মাঠে কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়া এবং নিজেদের মেধার পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগটি মেয়েরা বেশ উপভোগ করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...