সরকারি চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘ভাইভা কোটার ঠিকানা, বাংলাদেশে হবে না’ এবং ‘ভাইভা-কোটা সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ সহ বিভিন্ন অধিকার আদায়ের স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে অংশ নেয়া গণিত ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছিল ছাত্রদের হাত ধরে কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন। মেধার মূল্যায়নে কোনো ধরনের কারচুপি বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না এবং রাজপথেই এর ফয়সালা করবে। ইতিহাস থেকে বর্তমান নীতি নির্ধারকদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘ভাইভা বোর্ডে অতিরিক্ত নম্বর বরাদ্দ রাখার অর্থই হলো স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করার প্রত্যক্ষ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এতে করে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত হবেন এবং দুর্নীতির নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। আমরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১১ ও ১২তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত ৫০ এবং মৌখিক ৫০ নম্বর; ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে লিখিত ৬০ ও মৌখিক ৪০ নম্বর; এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে লিখিত ২৫ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

