দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে মুসলিমদের ইবাদতের জন্য বর্তমানে মোট ৭২টি সুসজ্জিত মসজিদ রয়েছে। ইসলামিক ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের জন্য ৬টি পূর্ণাঙ্গ মাদ্রাসা রয়েছে। তন্মধ্যে ৬৯টি মসজিদ ও তিনটি মাদ্রাসার হিসাব পরিচালনা এবং কর্মীদের বেতন ও পে-স্লিপ তৈরির জন্য ব্যবস্থাপনা সেবা দিয়ে থাকে সিঙ্গাপুরের ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিল অব সিঙ্গাপুরের (মুইস) অধীনে মসজিদ-মাদ্রাসা-ওয়াকফ শেয়ার্ড সার্ভিসেস কমিটি ।
সুলতান মসজিদ কাম্পং গ্ল্যাম এলাকায় অবস্থিত সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং অন্যতম প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদ। দারুল গোফরান মসজিদ ট্যাম্পিনিস এলাকায় অবস্থিত এবং ধারণক্ষমতার দিক থেকে এটি সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় মসজিদ, যেখানে একসাথে প্রায় ৫,৫০০ মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। জামে মসজিদ চাইনাটাউনে অবস্থিত একটি অত্যন্ত পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। আবদুল গফুর মসজিদ লিটল ইন্ডিয়া এলাকায় অবস্থিত এর চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর জন্য এটি বেশ পরিচিত।
৬টি প্রধান ফুল-টাইম মাদ্রাসা হলো: মাদ্রাসা আলজুনাইদ আল-ইসলামিয়াহ, মাদ্রাসা আল-ইরসিয়াদ জুহরি আল-ইসলামিয়াহ , মাদ্রাসা আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়াহ, মাদ্রাসা আল-ওয়াকফ আল-ইসলামিয়াহ , মাদ্রাসা আল-আরবিয়াহ আল-ইসলামিয়াহ এবং মাদ্রাসা আলসগোফ আল-ইসলামিয়াহ। এই মাদ্রাসাগুলো ছাড়াও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন মসজিদে পার্ট-টাইম বা খণ্ডকালীন ইসলামিক শিক্ষা, সপ্তাহান্তে কোরআন ও দ্বীনি শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের মুইস অধীন মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোর কর্মীদের বেতন ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যারে র্যানসমওয়্যার হামলা হয়েছে। এতে কর্মীদের বেতন, ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে এবং বেতন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটেছে। দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, হামলার পর সিস্টেম ও এর ব্যাকআপ এনক্রিপ্ট করে দেওয়া হয়।
হামলার শিকার সিস্টেমটির নাম স্মার্টএইচআরএমএস। এটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অ্যাভেলজিকের সরবরাহ করা একটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নোটিশ অনুযায়ী, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট সন্দেহজনক হামলাকারীর কার্যক্রম প্রথম শনাক্ত করা হয়।
মুইস জানিয়েছে, আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো, অ্যাভেলজিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে। তবে কতগুলো মসজিদ ও মাদ্রাসা আক্রান্ত হয়েছে এবং ঠিক কী ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত বা আপসকৃত হয়েছে, তা মুইস প্রকাশ করেনি। চলমান তদন্তের কারণে মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে কি না বা তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তারা মন্তব্য করেনি।
আক্রান্ত ব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরের কয়েক ডজন মসজিদ ও মাদ্রাসার কর্মীদের নাম, যোগাযোগের তথ্য, বেতন এবং ব্যাংক হিসাব নম্বরের মতো তথ্য থাকার কথা। হামলার পর হিসাবরক্ষণ বিভাগের কর্মীরা সিস্টেমে প্রবেশ করতে না পারায় কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হয়েছে।
এদিকে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অ্যাভেলজিক জানিয়েছে, তারা পুলিশ ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কমিশনের (পিডিপিসি) কাছে ঘটনাটি জানিয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে সিস্টেম ও ব্যাকআপ এনক্রিপ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
অ্যাভেলজিক আক্রান্ত সেবা পুনরুদ্ধারের কাজ করছে এবং ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেম পুনরায় চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মুইস জানিয়েছে, এই ঘটনায় মসজিদ-মাদ্রাসার জনসাধারণের জন্য সরাসরি দেওয়া সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ ও বেতন কার্যক্রম চালু রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


