যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনে যে পক্ষই জয়ী হোক না কেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন বলে মনে করছে মস্কো।
সোমবার বিবিসিকে দেওয়া এক বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
পেসকভের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এলেও রাশিয়া আপাতত স্বাভাবিক কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার প্রত্যাশা অনুযায়ী চূড়ান্ত কোনো শান্তিচুক্তি এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাম্প। মস্কো চেয়েছিল, তাদের শর্ত ও অবস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে ইউক্রেন সংকটের সমাধান হোক। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি রুশ ডিজেল কেনার বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনায় ট্রাম্পকে তুলনামূলক বেশি সরব দেখা গেছে। অন্যদিকে, পুতিনের সমালোচনায় তার অবস্থান অনেকটাই সংযত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রাশিয়ার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার সংবাদপত্র নেজাভিসিমায়া গেজেতা এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে।
পত্রিকাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের শুরু করা একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এতে তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াসংক্রান্ত নীতিসহ নিজের পছন্দের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নেও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থানেও পড়তে পারে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


