গাজায় ইসরাইলি হামলায় নতুন করে আরো ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে ১৭ জন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসারাইল পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণ শিবির থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় আল জাজিরা। তবে ত্রাণ শিবিরে হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল।
রোববার গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসকরা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, পরিবারের ক্ষুধার্ত সদস্যদের জন্য সামান্য খাবার খুঁজতে মরিয়া হয়ে তথাকথিত নেৎজারিম করিডোরের কাছে বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ শিবিরের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে অনেকে। এসময় ইসরাইলি গুলিতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং অনেকে আহত হন।
এছাড়াও ১০ জন ত্রাণপ্রার্থী নিহত ও অর্ধ শতাধিক আহত হয় গাজার দক্ষিণাঞ্চলে। হতাহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাফাহ এলাকায় রেড ক্রস হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানান, ‘লোকজন আমাদের জানিয়েছেন, গুলি করার আগে ত্রাণপ্রার্থীদের সতর্ক করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এরফলে বেসামরিক লোকজন মারা যায়।’
ত্রাণ শিবির থেকে ফিরে হামলার বর্ণনা দিয়ে আহমেদ আল মাসরি নামে এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘এটা ছিল ইসরাইলের ফাঁদ।’
রোববার গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এছাড়া, বেইত লাহিয়ায় দখলদার বাহিনীর হামলায় আরো সাতজন মারা যায়।
গাজার মধ্যাঞ্চলে নুসেইরাত শরনার্থী শিবিরে ইসরাইলি হামলায় মারা যায় আট জন। আবাসিক ভবনে চালানো ওই হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়।
এরআগেও বহুবার ত্রাণ শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এরপরও ভয়াবহ খাদ্য সংকটে ভুগতে ফিলিস্তিনিরা মরিয়া হয়ে ত্রাণের সন্ধানে খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে ছুটে যায়। আর ক্ষুধার্ত এই মানুষগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা হামলা চালায় বর্বর ইসরাইলি বাহিনী।
এরআগে শনিবার ইসরাইলের হামলায় মারা যায় ৭৯ জন। এরমধ্যে অনেকেই ত্রাণ নিতে যেতে নিহত হন।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

