পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বুধবার তুলকারেমের পূর্বে বুরকা গ্রামের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জলপাই সংগ্রহের সময় কৃষকদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা প্রথমে কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। পরে তারা আহতদের মারধর করে এবং কয়েকজনকে বেঁধে রাখে। আলি হাসান আল-বাজারি (৪৪) পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিলেন এবং পরে মারা যান। তবে গুলি বসতি স্থাপনকারী নাকি ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় ইসরাইলি সেনারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা বসতি স্থাপনকারীদের থামানোর চেষ্টা করেনি। আহতদের উদ্ধারে আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীকে আটক এবং অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
হামলায় আহত ৯ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহতদের কয়েকজনকে তুলকারেমের থাবেত থাবেত সরকারি হাসপাতালে এবং অন্যদের নাবলুসের রাফিদিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
বুরকা গ্রামের স্থানীয় পরিষদের সদস্য শাদি আবু ওমর বলেন, কৃষকেরা নিজেদের জমিতে জলপাই সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তারা সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতি আশা করেননি। তার দাবি, একটি গাড়িতে করে বসতি স্থাপনকারীরা এসে কৃষকদের ওপর হামলা চালায় এবং পরে গুলি করে।
এদিকে পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে বলে জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলাসংক্রান্ত ঘটনায় ১ হাজার ১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন।
ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গড়ে প্রতি তিন দিনে একজন ফিলিস্তিনি আহত হতেন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রতিদিন গড়ে দুজনে দাঁড়ায়। চলতি বছর এই সংখ্যা আরো বেড়ে প্রতিদিন তিনজনের বেশি হয়েছে। এ সময় ফিলিস্তিনি বসতি, বাড়িঘর, গাড়ি, কৃষিজমি ও জলপাইগাছেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
জলপাইগাছ ও এর ফল ফিলিস্তিনিদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষকেরা তাদের জমিতে যাওয়ার সময় বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও বাধার মুখে পড়েন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে।
একই সময়ে পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার এএফপির ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক জাফর আশতিয়েহকে বসতি স্থাপনকারীরা মারধর করেন। তার ওপর হামলার সময় কাছাকাছি ইসরাইলি সেনারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আশতিয়েহকে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষকদের ওপর হামলা তাদের জীবিকা ও কৃষিজমির ওপর চাপ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরাইলি নাগরিকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। হামলার ঘটনায় গুলি চালানো ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, সুদান ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও এপি নিউজ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


