জাতিসংঘ সমর্থিত জাতিসংঘের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা আইপিসি জানিয়েছে, গাজা সিটি ও এর আশেপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। আইপিসি খাদ্য সংকটের সর্বোচ্চ ধাপ অর্থাৎ ‘পঞ্চম ধাপে’ গাজা সিটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মানে হলো, স্থানীয় লোকজন বর্তমানে চরম অনাহার ও দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন, এমনকি খাওয়ার মতো কিছুই পাচ্ছেন না। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে আইপিসি জানিয়েছে সেপ্টেম্বেরের শেষ নাগাদ একই পরিস্থিতি তৈরি আশঙ্কা রয়েছে মধ্য গাজার দেইর-আল-বালাহ এবং দক্ষিণ ইউনিসে। খবর আল জাজিরার।
আইপিসির প্রতিবেদনে গাজায় দুর্ভিক্ষের চারটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ছয় লাখ ৪১ হাজার ফিলিস্তিনি পঞ্চম ধাপ বা বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ফিলিস্তিনি। হামলার কারণে মার্চ থেকে প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনি নতুন স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯ লাখ মানুষ - অর্থাৎ জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ - একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যার ফলে বেশিরভাগ পরিবার অনিরাপদ, জনাকীর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে এবং অন্যরা খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই ঘোষিত তথাকথিত ‘কৌশলগত যুদ্ধবিরতি’ পরিস্থিতির উন্নতি করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ পুরো উপত্যকায় বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং গুলিবর্ষণসহ সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
পরিশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ‘খাদ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে’। যেখানে ৯৮ শতাংশের বেশি ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা দুর্গম হয়ে পড়েছে, গবাদি পশু ধ্বংস হয়ে গেছে, মাছ ধরা নিষিদ্ধ, নগদ অর্থের অভাব এবং দ্রব্য মূল্য নাগালের বাইরে।
তবে আইপিসির এ প্রতিবেদনকে নাকচ করে দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি গাজায় কোন দুর্ভিক্ষ হয়নি এবং আইপিসির প্রতিবেদন হামাসের দেওয়া মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নথিটির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘গাজায় কোন দুর্ভিক্ষ নেই। কায়েমী স্বার্থান্বেষী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে হামাসের মিথ্যাচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।’
জাতিসংঘ গাজার দুর্ভিক্ষের জন্য ত্রাণ সরবরাহে ইসরাইলের পরিকল্পিত বাধাকে দায়ী করেছে। জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক প্রধান বলেছেন, ‘গাজার দুর্ভিক্ষ আমাদের সকলকে তাড়িয়ে বেড়ায়। জাতিসংঘকে খাদ্য সরবরাহে যদি নিয়মিতভাবে বাধা না দেওয়া হতো, তবে তা সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা যেতো।’
জেনেভায় টম ফ্লেচার বলেন, ‘এটি এমন একটি দুর্ভিক্ষ যা আমরা খাদ্য সরবরাহ করার অনুমতি পেলে আমরা প্রতিরোধ করতে পারতাম। ইসরেইলের পদ্ধতিগত বাধার কারণে সীমান্তে খাদ্য জমা হচ্ছে।’
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


