২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওনের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে আদালত এই দণ্ড বহাল রাখে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বাধাগ্রস্ত করেন। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। সংসদ সামরিক আইন বাতিল করার পর নিজের গ্রেপ্তার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করেন।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত এই সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার পৃথক মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। ইউন দাবি করে আসছেন, তার ওই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছিল।
সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগ ছিল, সামরিক আইন ঘোষণার ঠিক আগে তিনি বাছাই করা কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠক করে মন্ত্রিসভার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া সামরিক আইনসংক্রান্ত আদেশ তৈরি এবং পরে তা ধ্বংস করা, বিদেশি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিরাপদ সামরিক ফোনের তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ ইউনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল।
গত জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত অধিকাংশ অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
এপ্রিল মাসে আপিল আদালত ওই রায় বহাল রাখার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও ইউনের আইনজীবী—উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে সর্বোচ্চ আদালতের এক বিচারক বলেন, সব আপিল খারিজ করা হলো। কারণ নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি ছিল না।
ইউনের আইনজীবীরা এ রায়ে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই সর্বোচ্চ আদালত মামলার নিষ্পত্তি করেছে।
তারা জানান, সাংবিধানিক ভিত্তিতে এই রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হবে।
রাজনৈতিক সংকট
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন এবং বেসামরিক শাসন স্থগিত করেন। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়।
তবে জরুরি অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা দ্রুত ভোট দিয়ে সামরিক আইন বাতিল করায় তা মাত্র ছয় ঘণ্টা কার্যকর ছিল।
ইউনের ওই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শেয়ারবাজারে বড় ধরণের পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রসহ দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাও এ ঘটনায় বিস্মিত হয়।
পৃথক আরেক মামলায় সামরিক আইন জারির আগে সংকট 'তৈরি' করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর দায়ে ইউনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন একটি আদালত।
ইউন বরাবরই দাবি করে আসছেন, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত তিনি ‘শুধু দেশের স্বার্থেই’ নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালেও তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে’ নির্মূল করা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে আসা বলে তার দাবি করা হুমকি মোকাবিলার জন্যই সামরিক আইন প্রয়োজন ছিল।
সামরিক আইন জারির উদ্যোগের কারণে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইউনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টির লি জে মিয়ং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


