কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রযুক্তি একদিন বিপজ্জনক জীবাণু উদ্ভাবনে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা অনেক আগেই ভাইরাসের জিনোম তৈরির বিষয়টি জানেন। এগুলো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি ভাইরাস কীভাবে কাজ করে তা জানতেও ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত নতুন এই গবেষণাটি ভাইরাসের জিন নকল করার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে অবস্থিত গবেষণা সংস্থা ‘আর্ক ইনস্টিটিউট’-এর বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রকৃতিতে ডিএনএ কাঠামোর বিন্যাস চিনতে শিখিয়েছেন এবং তারপর সেই তথ্য ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাসের জন্য রেসিপি তৈরি করতে শিখিয়েছেন।
গবেষকরা সেই রেসিপিগুলো অনুসরণ করে ডিএনএ অণু তৈরি করেন, এরপর তা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করান। এরপর পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়াগুলো এমন ভাইরাস তৈরি করে যা প্রকৃতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। ভাইরাসগুলো অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম হয়, যা প্রমাণ করে যে এগুলো কার্যকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম ভাইরাসের মিশ্রণ প্রাকৃতিক ভাইরাসের তুলনায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে বেশি কার্যকর ছিল। গবেষকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন ধরনের ফাজ থেরাপি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একই প্রযুক্তি ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরিতেও ব্যবহৃত হতে পারে। কানাডার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আইজ্যাক বোগোচ বলেন, এআই-নির্মিত ভাইরাস চিকিৎসায় সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ফাতেমেহ ভাফাই বলেন, বর্তমান গবেষণায় মানুষের জন্য সরাসরি কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ তৈরি ভাইরাসগুলো শুধু ব্যাকটেরিয়াকে আক্রান্ত করে। তবে এআই দিয়ে সম্পূর্ণ কার্যকর ভাইরাস তৈরির সক্ষমতাই ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতার বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এআই এখনো জটিল ও বড় ভাইরাস তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক টম এলিস বলেন, ফাজ ভাইরাসের জিনোম তুলনামূলকভাবে ছোট ও সহজ; মানুষের ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরি করা অনেক বেশি জটিল।
স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই গবেষণার গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি এর দ্বৈত ব্যবহার নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তারা বলেন, শুধু এআই ব্যবহার করলেই কেউ সহজে বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরি করতে পারবে—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা/নিউ ইয়র্ক টাইমস
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


