মোদির নৈশভোজে গেলেন না জিনপিং, নেপথ্যে কী

মোদির নৈশভোজে গেলেন না জিনপিং, নেপথ্যে কী

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-চীনের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শি কেন এই নৈশভোজে যোগ দিলেন না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে শি জিনপিং একা নন, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদও নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন না।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদির আয়োজিত নৈশভোজে অংশ না নেওয়া ব্রিকস নেতাদের মধ্যে শি জিনপিং ও শেখ খালেদ বিন মোহামেদ ছিলেন।

শনিবার বিকেলে দিল্লিতে পৌঁছান শি জিনপিং। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। দিনভর ছিল একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম। দীর্ঘ আকাশযাত্রার পর এমন ব্যস্ত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় চীনা প্রেসিডেন্ট বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, সময়ের ব্যবধান ও দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে শারীরিকভাবে ক্লান্ত থাকায় শি জিনপিং মোদির নৈশভোজে যোগ দিতে পারেননি। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর টানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকাও তার ক্লান্তির অন্যতম কারণ বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে শি অনুপস্থিত থাকলেও নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্য নেতারা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এতে অংশ নেন।

নৈশভোজে যোগ দেওয়া ভারতীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নৈশভোজে অংশ নেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে মধ্য দিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যান।

দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন রোববার শেষ হওয়ার কথা। এতে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ ও ১০ অংশীদার দেশের নেতাদের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর আগে শনিবার মোদি ও শি জিনপিং বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং নিজেদের অবস্থান ও মতামত তুলে ধরেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা মতপার্থক্যকে কোনোভাবেই বিরোধে রূপ না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

সূত্র: এনডিটিভি

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন