চীনের হয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি, যুক্তরাষ্ট্রে নারী গ্রেপ্তার

চীনের হয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি, যুক্তরাষ্ট্রে নারী গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে’র ছেলেকে চীনের হয়ে নজরদারির অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)।

বিজ্ঞাপন

রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ওয়ানইং ঝাং নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঝাং হিদার নামেও পরিচিত। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে নিবন্ধন না করে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে তাকে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলি।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসাইলি ঝাংকে ‘চীনা বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঝাং ‘নজরদারি এড়াতে গোপন কৌশল ব্যবহার করেছিলেন’।

এফবিআই জানিয়েছে, ঝাং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি করেছিলেন। শুরুতে সংস্থাটি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। পরে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে তার পরিচয় লাই টিং-ইউ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং সিয়াটলে যান। সেখানে তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ও তার পরিবারের ছবি, ভিডিও এবং গাড়ির নম্বরপ্লেটের তথ্য সংগ্রহ করে চীনে পাঠান।

এসাইলি বলেন, ঝাং বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানাননি। তার ভাষায়, এটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী অপরাধ।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে এবং তার দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি বলে আসছে, তাইওয়ান চীন থেকে আলাদা একটি স্বাধীন দেশ। তবে বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপায় সরবরাহ করতে ওয়াশিংটন বাধ্য।

চীনের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তাইওয়ান। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে দুটি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীন ও তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলন’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। দীর্ঘদিনের এ লক্ষ্যকে তিনি ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলেও উল্লেখ করেন।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন