ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তির কী প্রভাব পড়বে ইসরাইলের ওপর

ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তির কী প্রভাব পড়বে ইসরাইলের ওপর
ছবি: আল জাজিরা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কায় স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরাইল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আঞ্চলিক সম্প্রসারণবাদ ও সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে একে তাদের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে ইসরাইলের জন্য তুরস্কের অংশগ্রহণকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে তুরস্ক ইসরাইলের কঠোর সমালোচক এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতাকে তুরস্কের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেওয়া পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে তেলআবিবের কঠোর সমালোচনা করেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ইসরাইলকে মানবতার জন্য অভিশাপ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর রিয়াদ সেই প্রক্রিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই জোটের মূল লক্ষ্য শুধু ইসরাইলকে মোকাবিলা করা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-নির্ভরতার বাইরে সৌদি আরবের কৌশলগত বিকল্প তৈরি এবং ইরানের মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অক্টোবরে দেশটির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্ককে সম্ভাব্য নতুন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরছেন। বিরোধীরা এই চুক্তিকে সৌদি আরবকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাতে নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাবই বদলাবে না, ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনী রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন