১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিল্লি হাইকোর্টের

১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিল্লি হাইকোর্টের
ছবি: সংগৃহীত।

ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই খোদ রাজধানী দিল্লিতে একটি ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধের রায় বহাল রেখেছে আদালত। দেড়শ বছরের পুরোনো দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন নাকচ করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। মসজিদটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ আপাতত স্থগিত থাকলেও মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আদালত কোনো নির্দেশ দেননি। ফলে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের আশ্বাস মিললেও মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন না মুসল্লিরা। এই ঘটনা থেকে ভারতে মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কীভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার মসজিদটি রক্ষায় করা একটি আবেদনের শুনানিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই দিন কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানায়, দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের করা আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো উচ্ছেদ বা বলপ্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন ও লাইভল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী আশিস দীক্ষিত আদালতকে জানান, ওয়াকফ বোর্ডের আবেদন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এ সময় মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর।

তবে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়ার আবেদনটি আদালত গ্রহণ করেননি। সরকারি পক্ষের যুক্তি ছিল, উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকার একটি মন্দিরের বাইরের লোকজনের পাশাপাশি মসজিদেও বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আবেদনকারীর আইনজীবী এম সুফিয়ান সিদ্দিকী আদালতে জানান, উচ্ছেদ অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে তোলা ছবিও আদালতে উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে সেখানে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে না। ফলে নিরাপত্তার অজুহাতে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নেই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গের কাছাকাছি রেসকোর্স ক্লাবের ভেতরে অবস্থিত মসজিদটি। প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটি ১৯৭৭ সালে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ২০০৯ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার স্বীকৃতি পায়।

মসজিদটি ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত আশপাশের জমি পুনরুদ্ধার ও উচ্ছেদ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। গত ৭ অক্টোবর মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে আদালতে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মসজিদে প্রবেশের পথেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারী সৈয়দ আহমেদ সৌদ।

আবেদনে বলা হয়, মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত।

মসজিদটি রক্ষা এবং মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীর আইনজীবী। তবে আদালতের সর্বশেষ শুনানিতে মসজিদটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আশ্বাস মিললেও সেখানে নামাজ আদায়ের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ভবিষ্যতের পাশাপাশি মুসল্লিদের ধর্মীয় অধিকার নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন