একসময় তুরস্কের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন আহমেত দাভুতোগলু। এই শিক্ষাবিদ শতাব্দীর শুরুতে দেশটির উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি গঠনে সহায়তা করেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে, যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন, তারই সমালোচক হয়ে ওঠেন তিনি।
সম্প্রতি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দাভুতোগলু। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী ফিউচার পার্টি রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। একে আত্মসমর্পণ নয়, বরং দেশের ‘দূষিত রাজনৈতিক পরিবেশ’ থেকে নিজেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
একসময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন দাভুতওগলু। ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ তত্ত্বের মাধ্যমে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে তিনি দেশটিকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তার সময়ে ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে শূন্য সমস্যা’ নীতির মাধ্যমে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ে।
তবে সিরিয়ার যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার পররাষ্ট্রনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০১৬ সালে এরদোয়ানের সঙ্গে ক্ষমতা ও নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। পরে ২০১৯ সালে ফিউচার পার্টি গঠন করলেও দলটি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী রাজনীতির সীমাবদ্ধতা ও স্বাধীন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটি সফল হয়নি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে দলটি প্রধান বিরোধী সিএইচপির প্রতীকে নির্বাচন করে পার্লামেন্টে গেলেও এতে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় আরো দুর্বল হয়।
রাজনীতিতে ব্যর্থ হলেও দাভুতগলুর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও পররাষ্ট্রনীতির দর্শন দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এরদোয়ান ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, তুরস্কের রাজনীতি ও কূটনীতিতে তার রেখে যাওয়া প্রভাব ভবিষ্যতেও আলোচিত হবে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


