ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে কতবার পিছু হটলেন ট্রাম্প

ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে কতবার পিছু হটলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক অঙ্গনে ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ট্যাকো’ শব্দটি। এর পূর্ণরূপ—‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট’ (ট্রাম্প সর্বদাই শেষ মুহূর্তে পিছু হটেন)। বাণিজ্য শুল্ক আরোপের বিষয় হোক কিংবা ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ, ট্রাম্পের বারবার বড় ধরনের হুমকি দেওয়া এবং পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পটভূমিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই পরিভাষা ব্যবহার করছেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযানের হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতীতে কতবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এমন ধ্বংসাত্মক হুমকি দিয়ে আবার পিছু হেটেছেন, তার একটি পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো—

২১ মার্চ: বিদ্যুৎকেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ না করলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ হবে বলে কড়া হুমকি দেন ট্রাম্প। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর তিনি শেষ সময়সীমা প্রথমে পাঁচ দিন এবং পরে আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেন।

১ এপ্রিল: ‘প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া’র হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি না করায় ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন। তবে এরপর তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি ওয়াশিংটন। এর চার দিন পর সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় ইরানের সমালোচনা করে পোস্ট করেন তিনি।

৭ এপ্রিল: ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি ও পরে যুদ্ধবিরতি

ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তার এমন মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষ গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করে। তবে ঠিক পরদিনই (৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৪ মে: সামরিক অভিযান ঘোষণা ও স্থগিত

হরমুজ প্রণালির অবরোধে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিরাপদে পার করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিচালনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে এর মাত্র দুই দিন পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি জানান, সমঝোতার সম্ভাবনা যাচাই করতে এই অভিযান সাময়িকভাবে ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছে।

১১ জুন: দ্বীপ দখলের হুমকি থেকে এক রাতেই ইউ-টার্ন

ইরানে ‘খুবই কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি দিয়ে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল এবং পুরো জ্বালানি খাতের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি হঠাৎ ইউটার্ন নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব ঘন ঘন চরম হুমকি প্রদান এবং পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা সামরিক ময়দানে তার কথার গুরুত্ব কমাবে কি-না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন