বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানানোর পর সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর মূল্য ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৮৩ দশমিক ৮১ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তেলের প্রবাহ শুরু হতে দাও!’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর থেকেই কার্যত বন্ধ ছিল হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। বন্ধের পর তেহরান এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের নানা পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ ডলার ছিল, যা যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।

তবে জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখনই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটস’-এর অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, প্রথমে এই নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, প্রণালিটি ব্যবহারের জন্য ট্যাংকারের একটি বড় জট তৈরি হয়ে আছে এবং তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু করে তা জাহাজে লোড করার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা এই চুক্তিকে স্বাগত জানানোয় সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। সকালে জাপানের ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কসপি’ সূচক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলটি জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন