অবসান ঘটছে কি ট্রাম্প-যুগের

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক পতনের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানে প্রায় মরণঘাতী আঘাত হানতে পারেন। জনমত জরিপগুলো সঠিক হলে আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক পতন ঘটতে পারে ট্রাম্পের। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার দুই মেয়াদের মধ্যে যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। ইরানের সঙ্গে এখনো অমীমাংসিত যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের অসন্তোষ আরো বেড়েছে। বর্তমানে ট্রাম্পের গড় জনসমর্থন প্রায় ৩৭ শতাংশ।

জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনাকে অনেক বেশি বলে মনে করছেন। সিনেটেও তাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক কঠিন। অতীতে জনমত জরিপ ভুল প্রমাণিত হয়েছে, এবারও হতে পারে। তবে কোনো না কোনোভাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ধরনের নির্বাচনী ঢেউ আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সেটি ছোট ঢেউ হোক, বিশাল সুনামি হোক কিংবা মাঝামাঝি কোনো কিছু।

বিজ্ঞাপন

তবে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যত্রও। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক ধারার উত্থান ঘটেছিল—জাতীয়তাবাদ, জনতুষ্টিবাদ এবং প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও মিত্রদের প্রতি অবজ্ঞা—গণতান্ত্রিক বিশ্বের বড় একটি অংশে সেই ধারার প্রভাব এখন ক্রমেই কমে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই শুধু একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এর মধ্য দিয়ে সামনে আসছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রবণতা শক্তিশালী হয়েছিল, সেটি কি এখন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে?

জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক অসন্তোষ। নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের প্রায় দুই বছর পার হতে চললেও অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন স্পষ্ট নয়।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বেড়েছে পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম। ফলে মূল্যস্ফীতি এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপেও এই অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার স্বাস্থ্যসেবা ও ইরান যুদ্ধকেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জরিপে আরো দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার অসন্তুষ্ট। অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটারের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দলটির প্রতি ভোটারদের ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে, এমনটিও নয়। জরিপে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার। অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের সামনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ইউরোপেও চাপে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অনুসারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশলের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ এ ক্ষেত্রে আলোচিত উদাহরণ। ব্রেক্সিট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ এবং রিফর্ম ইউকে দলের নেতা ফারাজ দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান, জাতীয়তাবাদ ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনাকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বেশ কিছু মিল রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার দল রিফর্ম ইউকের জনসমর্থনে ভাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে দলটির জনসমর্থন ৩০ শতাংশের বেশি থাকলেও ২০২৬ সালের আগস্টে তা কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে আসে। রাজনৈতিক বিতর্ক, দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর উত্থানও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তবে ইউরোপের সব ডানপন্থি বা জাতীয়তাবাদী দলের জনপ্রিয়তা কমছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের ন্যাশনাল র‍্যালি এখনো দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের মতো দলগুলো প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটব্যাংকে প্রভাব বিস্তার করছে।

ইউরোপের কয়েকটি বড় গণতান্ত্রিক দেশে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির প্রভাব এখনো বাড়ছে। ফ্রান্সে ন্যাশনাল র‍্যালি এবং যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের অবস্থান সেই প্রবণতার উদাহরণ। এসব দলের উত্থান প্রচলিত রক্ষণশীল দলগুলোকে অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের মতো ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।

অর্থাৎ ইউরোপে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মডেলের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমনটি বলা যাবে না। বরং কোথাও এই ধারার জনপ্রিয়তা কমছে, আবার কোথাও তা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছে। তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতির প্রতি আগের মতো নিঃশর্ত সমর্থন সব জায়গায় থাকছে না—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক মডেলের মূল ভিত্তি কি দুর্বল হচ্ছে?

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্প শুধু রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিই বদলে দেননি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন একটি প্রবণতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তার রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার চেয়ে দ্বিপক্ষীয় দর-কষাকষিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার কথা বলেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ, বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপ নেন।

একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নকে রাজনৈতিক প্রচারের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন।

এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অনেক দেশের রাজনীতিকদেরও আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী নেতারা ট্রাম্পের মতো করে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা, অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই রাজনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে আসছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। শুধু জাতীয়তাবাদী বক্তব্য কিংবা প্রচলিত ব্যবস্থার বিরোধিতা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

ট্রাম্পের প্রভাব কি এত সহজে শেষ হবে?

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রত্যাশিত ফল না পেলেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে, এমনটা মনে করার কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তার ব্যক্তিগত সমর্থকগোষ্ঠী এখনো গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। রিপাবলিকান পার্টির বড় একটি অংশের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশলও তার প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা বাড়বে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো নেতাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও ট্রাম্পের বিরোধিতার বাইরে গিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন শুধু একজন নেতার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, বাণিজ্যনীতি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থার মতো বিষয়গুলো এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমলেও এসব ইস্যুতে তার অনুসারীদের অবস্থান পুরোপুরি হারিয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্যদিকে ইউরোপেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী এই ধারার উত্থান-পতন ঘটছে। তাই কোনো একটি দেশের নির্বাচনী ফল দিয়ে পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন।

সব মিলিয়ে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব ও রাজনৈতিক আদর্শের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফল খারাপ হলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং তার অনুসারীদের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হবে।

তবে ট্রাম্প-যুগের অবসান ঘটছে কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। বরং বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা টিকে থাকে, সেটিই আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তথ্যসূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, স্কাই নিউজ ও সিবিএস নিউজ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন